মানিকগঞ্জ-২ আসনে হাফ ডজন নেতা আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, মাঠে নেই বিএনপি!

মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর-সদরের আংশিক) আসনের হাফ ডজন নেতাকর্মীরা। তারা মনোনয়ন পেতে প্রতিদিন সভা,সমাবেশসহ ওঠান বৈঠক,ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়ছে। অপর দিকে,কেন্দ্রীয় নেতাদের পিছনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছে বলে জানা গেছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- মমতাজ বেগম এমপি, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল, জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু ছাড়াও সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, হাটিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মনির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার সালাম চৌধুরী মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় জোর লবিং করছেন।
এ আসনটিতে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান লাঙ্গল মার্কায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নৌকার মনোনয়ন পেয়েও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল জোটের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। এর পর তিনি সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। দলের টানা তিনবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা দেওয়ান সফিউল আরেফিন বাদ পড়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে মমতাজ বেগম মাঠ গুছিয়ে নেন। টুটুল অনুসারী দলের ত্যাগী নেতারা দলের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বশীল পদ থেকে বাদ পড়েন। এছাড়া দলীয় কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে পুলিশী হয়রানির শিকার হন টুটুল অনুসারীরা।
টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় দেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল তৃণমূলে আলোচনায় থাকলেও তার স্থলে মনোনয়ন পান ফোক সমাজ্ঞী মমতাজ বেগম। তিনি সে সময় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার পর থেকে রাজনীতির মাঠে রয়েছেন মমতাজ।
মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু প্রায় ২০ বছর ধরে এ আসনে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে দানবীর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে জনগনের মাঝে স্থান করে নিয়েছেন। এ প্রার্থীর পক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন রাজনৈতিক সমাবেশেও বক্তব্য দেন। টুলুর পক্ষে দলের হাইকমান্ডে জোর লবিং করছেন জেলার সভাপতি।
এ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলেন,সারা দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে সেই হিসেবে এ এলাকায় কিছুই হয়নি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাষা শহীদ রফিক সেতুর টোল মুক্ত হয়নি, এখনো পর্যন্ত করা হয়নি মডেল মসজিদ নির্মাণ, প্রসস্থকরণের নামে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঘটছে সম্পদসহ প্রাণহানি। সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আরোও বলেন,নৌকার মাঝি পরিবর্তন না হলে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনের সাধারন ভোটাররা এবার ভালো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলেও জানা যায়।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এক প্রশ্নের জবাবে  বলেন, সব চেয়ারম্যানই আমার সাথে,২-৩ জন চেয়ারম্যান তারা টাকা খেয়ে অন্য প্রার্থীর সঙ্গে ঘুরলেও নৌকা পেলে তারা আমার সাথে থাকবেন। গরু জবাই ও টাকা পয়সা ছাড়াই আমার সভা সমাবেশে পুরুষ মহিলারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। নিজেকে দূর্নীতি মুক্ত দাবী করে তিনি আরোও বলেন,আমার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারো আমাকে সংসদ সদস্য বানাবে এটাই জনগনের চাহিদা।

দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল এ প্রতিবেদককে জানান, আমি ২০০১ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। অদ্যবধি নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেই যাচ্ছি। আমি কখনও দলের বাইরে চিন্তা করি নাই । এর মূল্যায়ন নেত্রী হয়তো আমাকে করবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু বলেন, আমি ২০ বছর যাবৎ এ আসনের জনগনের সাথে মিশে আছি। সাধারন জনগন ও জেলা উপজেলা পর্যায় নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছে। আমার কাজের মূল্যায়ন করবে আমার নেত্রী। তিনি আরো বলেন,আমি মনোনয়ন পাবো ইনশাল্লাহ।

মনোনয়ন প্রত্যাশী সিংগাইর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান জানান, আমার ধারনা আমি মনোনয়ন পাবো। আমি ২ বারের উপজেলা চেয়ারম্যান। আমাকে নৌকা প্রতীক দিলে বিশাল ভোটে পাশ করব।

অপর দিকে, মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম মনির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার সালাম চৌধুরী মনোনয়ন পেতে জোর লবিং করছেন বলেও জানা যায়।
প্রসঙ্গত, বিএনপির হাইকমান্ড নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তাদের দলীয় প্রার্থীরা মাঠে নেই। তবে বিএনপি অধ্যুষিত এ আসনে দলের দুই জন হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী হচ্ছে- জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা ও সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে এস এম আব্দুল মান্নানের মনোনয়নও চুড়ান্ত বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *