মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস,সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)থেকে: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ভেকু দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ চারটি বসতবাড়ি গুড়িয়ে দেয়া এবং ৩ জনকে হাত-পা ভাঙ্গাসহ মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৯ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ডিবি পুলিশের এসআই মাসুদ রানা শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ১২ ও ১৩ নভেম্বর ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে । গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন- মানিক হোসেন(৩২), সোহানুর রহমান(২৬), শাওন হোসেন(২০), আরিফুল শেখ(২০), সুলতান বেপারী(১৯),রাকিব হোসেন(১৯),সাকিব(২০),মাহিম(১৯) ও আব্দুল্লাহ(২০)।
এসআই মাসুদ রানা শামীম জানান, গত ১১ অক্টোবর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে চারটির বাড়ি-ঘর ভাঙ্গচুর সহ তিনজনকে মারাত্মক জখমের পর লণ্ঠিত মোবাইল ফোনের আইএমই নাম্বারের সূত্র ধরে প্রথমে শাওনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে বাকি আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো জানান, ধৃত আসামীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন- ঘটনার দিন তারা পিয়ারজান ওরফে আউশির নেতৃত্বে ৫০-৬০ অজ্ঞাতনামা আসামিদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে বাড়িঘর ভাঙ্গচুর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য যে,গত ১১ অক্টোবর দিবাগত রাত ১ টা থেকে ৩ ঘন্টাব্যাপী উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভেকু দিয়ে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও তিনটি বাড়ি ঘর ভাঙ্গচুর করে এবং সেই সঙ্গে আবুল বাশার ওরফে বাহের (৭৫) ও তার ছেলে আরিফ হোসেনকে (৩৩) কুপিয়ে ও হাত-পা ভেঙ্গে ঘরে বন্দি করে রাখে। এছাড়াও এদের উদ্ধারে এগিয়ে আসলে বাহেরের স্ত্রী রেনু বেগম (৬০), মেয়ের দেবর সমেজ উদ্দিন (৩৬) ও আবদুল্লাহকে (৪৫) মারধর করে বেঁধে রাখে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ঘরে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ গুরত্বপূর্ণ সব মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ভাংচুর চলাকালীন সময়ে এক ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক আব্দুল গফুর মোল্লা ৯৯৯ এ কল করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দু’দফায় পুলিশ আসলেও তারা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে পিছু হটে। ফলে অসহায় হয়ে পড়ে ওই পরিবারসহ আশ পাশের লোকজন। পরদিন ১২ অক্টোবর ভুক্তভোগী এক বাড়ির মালিক আব্দুল গফুর মোল্লা বাদি হয়ে সিংগাইর থানায় পিয়ারজান ওরফে আউশি (৬০) এবং তার স্বামী আব্দুর রাজ্জাক (৭০) তার দুই ছেলে মো. হাসেম (৫০) ও জসিম (৩৮), ছেলের বউ নাজমা (৪২), নাতি রাজিব (২৫), নাতনী বন্যা (২২) এবং মেয়ের জামাই পাশ্ববর্তী ভাটিরচর গ্রামের সিরাজুল ( ৫২) ও তার ছেলে কামরুল (২৬) ও মেয়ে রাজি (২৩), সহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
