ডেস্ক রিপোর্ট : মহামারি করোনা কেড়ে নিয়েছিল স্কুলে যাওয়ার দিন, পড়াশোনাতেও ভাটা পড়েছিল দীর্ঘ সময়। এমন দুশ্চিন্তা আর হতাশার ঘোর কাটবে কি কখনো? হারিয়ে যাওয়া বছর যেমন কেড়ে নিয়েছিল সব, নতুন বছর যেন নতুন করে বয়ে নিয়ে আসে স্বাভাবিক জীবন এই প্রত্যাশা শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের।
নয় মাসেরও বেশি সময় পা পড়েনি প্রিয় বিদ্যাপীঠে। পড়াশোনা, আনন্দ আর খেলাধুলার সঙ্গী যে সহপাঠীরা, কত দিন দেখা হয়নি সেই মুখগুলোর, প্রিয় শিক্ষকরা কেমন ছিলেন ছুটির এ সময়টিতে। এমন সব স্মৃতিকাতরতা আর জিজ্ঞাসার যেন অবসান হলো আজ। একে তো নতুন বছরের উৎসবের আমেজ। তারওপর নতুন শ্রেণিতে পড়ার জন্য বই পাওয়ায় আনন্দের মাত্রা ছিল অনেক বেশি।
রফিকুল ইসলাম নামে শিশুশিক্ষার্থী জানায়, অনেক দিন স্কুলে আসি না। আজ এসে খুব ভালো লাগছে।যশোরের একটি স্কুলে বই নিতে আসা শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলে এসে নতুন বই পেয়েছি। আজকে থেকে আমরা নতুন করে পড়াশোনা শুরু করব।
শুধু পড়াশোনাই নয়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে বিদ্যালয়ের যে কত বড় ভূমিকা তা বোঝা যায় এ চিত্র দেখে। কাঙ্ক্ষিত বইয়ের সঙ্গে সহপাঠী-শিক্ষক-অভিভাবকদের দেখা পাওয়া; এ যেন আনন্দের সঙ্গে বাড়তি উৎসবের উপলক্ষ এনে দিয়েছে শিক্ষাঙ্গনজুড়ে।
শান্ত ইসলাম নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, করোনা কারণে অনেক দিন স্কুলে আসা হয় না। আজ এসে বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। খুব ভালো লাগছে।
২০২১-এর প্রথম দিনটিতে শিক্ষার্থীরা যেন পেয়েছে বছরের সবচেয়ে বড় উপহার। নতুন বই হাতে পাওয়ার অনুভূতির কাছে যেন হার মেনেছে মহামারির ভয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা ছিল এ উৎসবজুড়ে।
বই পেয়ে শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নয়, উচ্ছ্বাসের স্রোতে গা ভাসান অভিভাবকরাও। কুশল বিনিময় আর গল্পে আড্ডায় মেতে ওঠেন তারাও।এক অভিভাবক জানান, প্রথম দিন স্কুলে এসে শিক্ষার্থীরা বই পেয়েছে। আশা করি, তারা (শিক্ষার্থী) নতুন বই পেয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।
বেশ কয়েক মাস বিরতির পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দেখা পেয়ে ও হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিতে পেরে সন্তুষ্ট শিক্ষকরা।
তাদের পরামর্শ, ছাত্রছাত্রীরা সময় অপচয় না করে যাতে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়, এ বিষয়ে যত্নবান হবেন অভিভাবকরা।
শিক্ষকরা বলেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের পেয়ে খুবই খুশি। তারা সাহস সঞ্চার করে বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে এটা খুবই ভালো দিক।
সবার প্রার্থনা, দ্রুত অবসান হোক করোনার প্রকোপের। আবার শিক্ষা-আনন্দ-ব্যস্ততায় মুখরিত হোক স্কুল প্রাঙ্গণ।
