অনলাইন ডেস্কঃ আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ৯৫তম জন্ম বার্ষিকীতে গুগল-এর উপহার। বাংলাদেশে যারা আছেন, তারা আজ সারাদিন দেখতে পারবেন। আর যারা বিদেশে আছেন, তাদের জন্য গুগল ডুডল চিত্রকর্মটি এখানে দিচ্ছি। গুগলকে ধন্যবাদ মুনীর চৌধুরীর ছেলে নাট্যব্যক্তিত্ব আসিফ মুনীর।
শহীদ বুদ্ধিজীবী, নাট্যকার, শিক্ষাবিদ মুনীর চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন করছে সার্চ জায়ান্ট গুগল। মুনীর চৌধুরীর ৯৫ জন্মদিন উপলক্ষে এই বিশেষ ডুডল প্রকাশ করা হয়েছে। ২৭ নভেম্বর প্রথম প্রহরে ডুডলটি প্রকাশ করে গুগল। গুগলের হোম পেজে গেলে এ ডুডল চোখে পড়বে। বাংলাদেশ থেকে এটি সারাদিন দেখা যাবে।ডুডলটিতে গুগলের লোগোর মাঝখানে শহীদ
মুনীর চৌধুরীকে খোলা বই হাতে দেখানো হয়েছে। তার গায়ে শাল জড়ানো। চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা। এ উপলক্ষে গুগলের লোগোও বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ছবির ওপরে ক্লিক করলে মুনীর চৌধুরীর ছবিসহ তার বিস্তারিত তথ্য
পাওয়া যাবে।বিশেষ কোনো দিন উদযাপনে সার্চ বক্সের ওপরে নিজেদের লোগো বদলে মানানসই নকশার যে লোগো তৈরি করে গুগল, তাকে ডুডল বলা হয়। গুগলের এই ডুডলটি কেবল বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে।
মুনীর চৌধুরীর ছেলে নাট্যব্যক্তিত্ব আসিফ মুনীর বলেন, নতুন তথ্য-প্রযুক্তির যুগে জনপ্রিয় ও সার্চ জায়ান্ট গুগলের এই উদ্যোগের প্রশংসা করি, ধন্যবাদ জানাই। গুগলের এই শ্রদ্ধা নতুন প্রজন্মের কাছে মুনীর চৌধুরীকে তুলে ধরবে।
তিনি জানান, গুগল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি নিয়েছে। ছবিসহ ও অন্যান্য তথ্যও নিয়েছে তাদের কাছে। ডুডলে
মুনীর চৌধুরীর যথার্থ চেহারা না ফুটে ওঠার কথাও জানান তিনি। বলেন, ডুডলের কার্টুনধর্মী বিশেষ ঘরানার নকশার কারণেই স্মরণীয় ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি এরকম হয়। তবে, ডিজাইন ঠিক রেখে প্রতিকৃতিতে আসল চেহারা ধরে রাখার বিষয়টি গুগল ভাবতে পারে বলেও জানান তিনি।
১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন মুনীর চৌধুরীর। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার গোপাইরবাগ গ্রামে। পিতা খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
১৯৪১ সালে মুনীর চৌধুরী ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর আলীগড় মুসলিম
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বিএ অনার্স (১৯৪৬) ও এমএ (১৯৪৭) পাস করেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলায় এবং ১৯৫৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
খুলনার ব্রজলাল কলেজে (বিএল কলেজ) অধ্যাপনার (১৯৪৭-৫০) মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন মুনীর চৌধুরী। পরে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (১৯৫০) অধ্যাপনা করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও ১৯৫৫ সালে যোগ দেন বাংলা বিভাগে।
মুনীর চৌধুরী ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’, ‘কবর’, ‘চিঠি’, ‘কেউ কিছু বলতে পারে না’, ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ প্রভৃতি।১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুনীর চৌধুরীকে আলবদর বাহিনী বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং সম্ভবত ওই দিনই তাকে হত্যা করা হয়।
