শ্রীনগর-দোহার আন্তঃ সড়কের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে শত শত কাচাঁ,পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী(মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর-দোহার আন্তঃ সড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার জায়গা দখল করে স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এভাবে সড়কের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে রাস্তায় যানজট বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এমনকি সড়ক দুর্ঘটনাও চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এ ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসলেও থামছেই না অবৈধ দখলদারদের এই অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম।
এতে সড়কের প্রশস্ততা কমে যাওয়ার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তা সংকুচিত হওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফুটপাত বা সড়কের অংশ দখল হওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক ও মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, কোনো সড়ক বা মহাসড়কের ৩০ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু সে আইন যে সব ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না, তা বোঝা যায় শ্রীনগর উপজেলায় শ্রীনগর-দোহার সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গায় শত শত অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার ঘটনায়। উপজেলায় সড়ক ও মহাসড়কের পাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার ছনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে দোহার উপজেলার সীমাবর্তী বরিবরখোলা তিনদোকান মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে সওজের দু-পাশের জায়গা অবৈধভাবে দখলে করে স্থাপনা নির্মান করেছে দখলদাররা। এর মধ্যে ছনবাড়ী থেকে শ্রীনগর চকবাজার, ভাগ্যকুল রোডের ইসলামী ব্যাংকের সামনে কুশুরীপাড়া বাইপাস মোড়, তিনদোকান বাসস্ট্যান্ড, বালাশুর বৌবাজার, বালাশুর চৌ-রাস্তা মোড়,আলামিন বাজার ও রবিবরখোলা তিনদোকান মোড় পর্যন্ত সওজের জায়গায় শত শত পাকা, অর্ধপাকা ও কাঁচা স্থাপনা রয়েছে। প্রতিটি স্থাপনা পিচের রাস্তা থেকে ৫-১০ ফুট দূরত্বে। একইভাবে মহাসড়কের বালাশুর বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এ ছাড়া এই আন্তঃসড়কের আরও বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের দু-পাশে সরকারি জায়গা দখল করে দালান, আধা পাকা, দো-চালা-চৌচালা টিনের দোকান ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশ দখল করে বালুর ব্যবসা করছেন কেউ কেউ। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে সড়ক দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।
এসব অবৈধ স্থাপনা রাতারাতি গড়ে ওঠে না। সওজের লোকজনের চোখের সামনেই সেগুলো বহুদিন ধরে গড়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পরেই আবার সেগুলো গড়ে ওঠে। এটাও ঘটে সওজের লোকজনের জ্ঞাতসারেই। এক দোকানমালিক বলেন, ঘর তোলার সময় সওজের লোক এসেছিল, তাঁদের ম্যানেজ করেই ঘর তোলা হয়েছে। এই ‘ম্যানেজ করা’র ফলেই সরকারি জায়গা–জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠা সম্ভব হয়। এসব বন্ধ করতে হলে সরষের মধ্যেকার ভূত তাড়াতে হবে।
সওজ ও রেল বিভাগের খালি জায়গায় কিংবা নদ–নদী, জলাশয় ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা সারা দেশেই ঘটছে। এসব স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য প্রথমত প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিভাগ, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *