সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ওয়্যারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির নামজারি ও জমা ভাগ নিয়ে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নামজারি বাতিলের দাবি করেছেন রেজা হায়দার রহিম খান উল্লাস। অন্যান্য ভাই বোনদেও ওয়ারিশদের না জানিয়ে গোপনে সম্পত্তির বড় একটি অংশ ভাই জিয়া হায়দার উজ্জ্বল নিজের নামে নামজারি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিরাজদিখান বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী রেজা হায়দার রহিম খান উল্লাস ও তার স্ত্রী ফাহমিদা ইয়াছমিন খানম। সংবাদ সম্মেলনে দারা তাদের অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওয়ারিশ সম্পত্তির নামজারি ও জমা ভাগ সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা বাতিলের দাবি জানান।
রেজা হায়দার রহিম খান উল্লাস সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া খান বাড়ি এলাকার মৃত মাহফুজুর রহমান খান ও হাসান আরা বেগমের ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেজা হায়দার রহিম খান উল্লাস অভিযোগ করেন, তাদের পিতা-মাতার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে একাধিক ওয়ারিশ থাকা সত্ত্বেও তার ভাই জিয়া হায়দার উজ্জ্বল অন্যান্য ওয়ারিশদের অবগত না করে গোপনে ওয়ারিশ সম্পত্তির বড় একটি অংশ নিজের নামে নামজারি ও জমা ভাগ করে নেন। বিষয়টি পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা একটি দলিলের মাধ্যমে জিয়া হায়দার উজ্জ্বলকে ৬ শতাংশ ১২ পয়েন্ট জমি লিখে দেন। কিন্তু ওই দলিলের সুযোগ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ৬ একর ১২ শতাংশ জমি দলিল করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল, ভূমি রেকর্ড ও অন্যান্য নথি যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
রেজা হায়দার রহিম খান উল্লাস জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলিল ও নামজারি-জমা ভাগ সংক্রান্ত কেস নম্বর ৭৭০/৯ থেকে ২০১৪ এবং ২০০৩ সালের নামজারি ও জমা ভাগ সংক্রান্ত নথি বাতিলের বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা ও আইসিটি, মুন্সীগঞ্জ মহোদয়ের ৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের আদেশের পর বিষয়টি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য সিরাজদিখান সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নথি প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট সব দলিল, নামজারি খতিয়ান, জমা ভাগের কাগজপত্র ও ওয়্যারিশান সনদ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। একই সঙ্গে অন্যান্য ওয়্যারিশদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০৩ সালের নামজারি ও জমা ভাগের কেস বাতিল করে মূল জোত বহাল এবং আইনানুগ ওয়্যারিশদের নামে যথাযথ নামজারি ও জমা ভাগের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়া হায়দার উজ্জ্বলের বক্তব্যও জন্য তার মোবাইল মোনে যাগাযোগ কওে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
