সিংগাইরে সরকারি রাস্তা দখল করে প্রভাবশালীর মার্কেট নির্মাণ

মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ছয়ানী (বাজার) সরকারি রাস্তার পূর্বপাশ দখল করে বেশকিছু দোকানঘর নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন এমন অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মো. জমসের আমীনের ছেলে মো. আনসার আলীর বিরুন্ধে। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে বাজার এলাকায় রাস্তার পাড়ে দোকান তৈরি করে কিভাবে বহাল তবিয়তে রয়েছে এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ছয়ানী বাজারের পূর্ব পাশ ঘেষে খেলেশ্বর মৌজার এসএ ২৪০, ২৪১, ২৪২ নং দাগের পশ্চিম মাথায় আরএস ৩৫৬ নং দাগের ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার বেশ কিছু জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মান করেছেন আনসার আলী। এমনকি ডজন খানেক দোকান ঘর করে ভাড়াও দিয়েছেন তিনি। এ রাস্তা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের সাথে সংযোগ হওয়াতে প্রতিদিন শতশত যানবাহন চলাচল করে থাকে। তার দোকান নির্মানের ফলে জন চলাচলে ভীষণ অসুবিধা সৃষ্টিসহ যানবাহন চলাচলে বিভিন্ন সময়ে র্দূঘটনা ঘটেছে। এ এলাকার লোকজন সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ করে থাকে বিধায় কৃষকের যাতায়াত খরচ সাশ্রয়ের জন্য এখানে দীর্ঘদিন ধরে সকালে নিয়মিত কাঁচা বাজার বসত। মার্কেট নির্মানের পরে জায়গা সংকটের কারণে বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার লোকজন পড়েছে বিপাকে।
জানা যায়, সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণে জনদূর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয়রা জনসধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য জমি দখলমুক্ত করে সরকারি জমি উদ্ধারকরণ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন এখনও কোনো হস্তক্ষেপ না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষোপ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি জায়গা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে হলে সরকারি অনুমতি সাপেক্ষে লীজ নিতে হয়। এসব নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে মার্কেট করে নিজে সুবিধা ভোগ করলেও সরকার প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।
স্থানীয় মো. আশকার আলী (৬০), আনিছ আলী মৃধা (৫০), বিসু বেপারি (৭০), আব্দুর রশিদ (৫৫), জজ আলী (৪৫) অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এ রাস্তা অনেক চওড়া ছিল। নিয়মিত এখানে সকালে কাঁচা বাজার বসত। রাস্তা দখল করে আনছার মার্কেট করায় জায়গা সংকটের কারণে বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা সরু হওয়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো কর্নপাত না করে উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখায়। যার জন্য আমরা ভয়ে কিছু বলি না।
অভিযুক্ত মো. আনছার আলী বলেন, আমি কোনো সরকারি জায়গায় দোকান করিনি। আমার জায়গায় দোকান করেছি। তবে আমার ২টি দোকান আংশিক রাস্তায় পড়েছে। সরকার চাইলে আমি যে কোনো সময় ভেঙ্গে দিব।
জয়মন্টপ ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। আপনার কাছ থেকে শুনলাম। সার্ভেয়ার নিয়ে মেপে জায়গাটি কি অবস্থায় আছে দেখে কর্তৃৃপক্ষকে জানাব।

জয়মন্টপ ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহাদৎ হোসেন বলেন, সার্ভেয়ার দিয়ে মাপা হয়েছে। এতে তার সরকারি রাস্তার মধ্যে ২টি দোকান পড়েছে। আমি ইউএনও অফিসে রিপোর্ট দিয়েছি। বাকি দোকানগুলি তার ব্যক্তিগত জায়গায় করেছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।  আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখব। যদি সরকারি জায়গায় মার্কেট হয় অবশ্যই আইনুনাগ ব্যবস্থা নিব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *