মো. কামাল হোসেন : ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মুন্সী বাড়ির ক্লাব পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ এক বছর আগে থেকে শুরু করলেও এখনও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইশরাত বিল্লাহ টেডার্স। ২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের এমন ধীরগতিতে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজের অর্ধেকও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রায় এক বছর ধরে ভেঙে রাখা হলেও কাজ করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ওই পথের যাত্রী ও পথচারীরা। ঘটছে দুর্ঘটনাও। ভাঙা রাস্তার কারণে যান চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে।
কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, রাস্তাটি অনেক দিন ধরে এ অবস্থায় পরে আছে। রাস্তাটি আগের মতো থাকলেও আমাদের এত অসুবিধা হতো না। এখন যেমনটা হচ্ছে ।
শিক্ষার্থী মো. রাকিব জানান, এ রাস্তাটি অনেকদিন যাবৎ এমন হয়ে আছে। আমাদের যাতায়াতে অনেক অসুুবিধা হচ্ছে। আমরা চাই রাস্তাটি যেন তাড়াতাড়ি ঠিক করা হয়।
রিকশাচালক কাঞ্চু জানান, রাস্তা এমন থাকার কারণে এ দিককার যাত্রী রিকশায় উঠতে চায় না। রাস্তাটি যেন ঠিক করা হয় এটা ই আমরা চাই।”
এক পথচারী জানান, এ রাস্তায় গাড়িতে যাওয়ার চেয়ে পায়ে হেটেই যাওয়া অনেক ভালো। গাড়িতে উঠলে খাচা খেয়ে অসুুস্থ হয়ে যায়।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রুবেল হোসেন বলেন, রাস্তা শুধু ভাঙাই হয়েছে, ভালো আর হয় না। রাস্তাটার অবস্থা দেখে মনে হয় এটা দেখার মানুষ নাই ।
ভ্যান চালক শাজাহন (৫০) বলেন, ‘এ রাস্তাটা ভালো না হওয়া পর্যন্ত আমাগো শান্তি নাই। রাস্তাটি ভালো করার আবেদন জানাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমাদের প্রায় সময়ই এ রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাঙা রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এই সড়কের দুরবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে। প্রায় এক বছর আগে কাজ শুরু করতে দেখেছি। কিন্তু এখন কাজের অগ্রগতির কোনো নমুনাও দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির অবস্থা এমন কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্নধার শান্ত মুঠোফোনে জানান, প্রায় এক বছর আগে কাজ শুরু করা হলেও বন্যা আর করোনার জন্য নির্ধারিত সময়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ কাজটা শেষ হবে এ প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, আগামী দুইমাসের মধ্যে এ রাস্তার কাজটা শেষ করা হবে।
দোহার উপজেলা প্রকৌশলী হানিফ মোহাম্মদ মুর্শিদী বলেন, এ রাস্তাটি আরও আগে শেষ করার কথা ছিল কিন্ত এখনও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। এছাড়াও বন্যার কারণে রাস্তার কাজ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন দ্রুত এ রাস্তাটির কাজ শেষ করা হবে।
