বিশেষ প্রতিনিধি: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পাড়াগ্রাম মডার্ন লাইফ হাসপাতালের ডা. আনিসুর রহমান পরিচয়ের এক ভূয়া চিকিৎসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিমসহ ক্লিনিকের নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। শনিবার বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম ও উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় এ মামলা করেন। একই সাথে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিবুল ইসলামের ভ্রাম্যমান আদালত ভূয়া চিকিৎসককে তিনমাসের কারাদ- প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. আনিসুর রহমান পরিচয়ের ভূয়া বিএমডিসি নম্বর ব্যবহার করে ক্লিনিকটিতে সিজারিয়ান অপারেশন, মুসলমানিসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন ঐ ব্যক্তি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ক্লিনিকটিতে গত চার মাস যাবত সপ্তাহে দুদিন বসছিলেন বলে জানান তিনি। দিন প্রতি এক হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিতেন বলেও উপস্থিত প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন আনিসুর রহমান নামধারী।
এবিষয়ে জানতে পাড়াগ্রাম মডার্ন লাইফ হাসপাতালের চেয়ারম্যান শারমিন সেলিম তুলির মুঠোফোনে একাধিকবার সংযোগ দেয়া হলেও তিনি কথা বলেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ, মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিতম দে জানান, কয়েকমাস যাবত ভূয়া চিকিৎসক ও ক্লিনিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নামে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে আসছিলেন। শনিবার তাদের চিকিৎসক সংক্রান্ত কাগজপত্র ও ক্লিনিকের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। চিকিৎসকের কাগজপত্র পরিক্ষা করে নিবন্ধনে মিল পাওয়া যায়নি। এতে ক্লিনিক কর্মকর্তার যোগসাজসের প্রমান পাওয়া যায়। তাই দুজনকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভূয়া চিকিৎসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নামে পৃথক মামলা দেয়া হয়েছে। ক্লিনিকের কাগজপত্রও হালনাগাদ এবং অসম্পূর্ণ। তাই ক্লিনিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।
