দোহারে বন্যায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত

ইমরান খান রাজ:  ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার নতুন নতুন গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। গত কয়েকদিনে বন্যার পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দোহারে প্রায় ৪০ হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো কর্মজীবী মানুষ। ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মুকসুদপুর ইউনিয়ন, নারিশা ইউনিয়ন,সুতারপাড়া ইউনিয়ন ও বিলাশপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। মূলত নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তলিয়ে যায় এসব এলাকা। এমতাবস্থায় তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন নানান কাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

নারিশা বাজারের ব্যবসায়ী মো. খলিল প্রামাণিক বলেন, এবছর ব্যাপক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমার দোকানের সামনে পানি উঠে গেছে। বন্যার পানি বাড়ার কারণে দোকানে ক্রেতার সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। একদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক তারমধ্যে বন্যা ! বন্যার পানি বাড়ার জন্য দোকানটাও বন্ধ রাখতে হচ্ছে মাঝে মাঝে। এখন পরিবার নিয়ে তিনবেলা খাওয়াটাই কষ্টকর হয়ে গেছে। এসময় তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদেরকে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহবান জানায়৷

বন্যার পানি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়াতে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও বাজার তলিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় মানুষজন নৌকা বা কলাগাছের ভেলা বানিয়ে তাতে দৈনিন্দন চলাফেরা করছে। পূর্বের বাজারের স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় এখন অনেক এলাকাতেই রাস্তায় বাজার বসেছে। আর এতে দুর্ভোগ বেড়েছে যানবাহন চলাচলে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলে দোহারের নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের কষ্টের শেষ থাকেনা। বন্যার কারনে নষ্ট হচ্ছে ফসল, পানিতে মরে যাচ্ছে গাছপালা, কর্মজীবী মানুষের কাজে যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। প্রতিবছর বর্ষার সময়ে উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী হাজারো পরিবার কষ্টে দিনযাপন করে। নদী ভাঙ্গনের ফলে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয় অনেক পরিবার। গতবছর পদ্মা ভাঙ্গন রোধে উদ্যোগ নেন ঢাকা-১ আসনের এমপি সালমান এফ রহমান। দ্রুত পদ্মা বাঁধের কাজ সম্পন্ন করে নদী ভাঙ্গন রোধ করা হবে সেটাই প্রত্যাশা দোহারবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *