মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস (মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জে সিংগাইর উপজেলার অন্যন্য বাজারের ন্যায় সিংগাইর পৌর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় মসলার দাম বেশি বলে অভিযোগ ওঠেছে। ১৫ রমজান শেষ হলেও মসলার দাম হ্রাসের নেই কোন বালাই। মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মার্চ মাসের ১৭ তারিখ থেকে পর পর ৩ বার ছুটি বাড়ানোসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও জনসাধারণ ঘরমুখি হয়ে যায়। এতে মানুষ কর্মহীন হয়ে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। যার জন্য পরিবার নিয়ে বেচেঁ থাকা দায়। তার মধ্যে আবার বাজারে নিত্য প্রয়োজনী খাদ্য দ্রব্যে ও মসলার দাম লাগামহীন উর্দ্ধমুখী। যা এ করোনা পরিস্থিতিতে কারও কাম্য নয়।
তাছাড়া এ পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে সকলকেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। বাজারের এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্টিকেটের কারণে কোন ভাবেই কমছে না প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও মসলা জাতীয় পন্যের দাম। আদার দাম কিছুটা হ্রাস পেলেও অন্য মসলার দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি। এই মহামারি করোনার মধ্যে পকেট ভাড়ি করার জন্য ব্যস্ত এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এমন অভিযোগই ক্রেতা সাধারনের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ১ পৌরসভা এলাকায় একাধিক বাজার রয়েছে। অন্যন্য বাজারে ন্যায় সিংগাইর পৌর এলাকার বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও মসলা জাতীয় পণ্যর মূল্যের ভিন্ন চিত্র। দু’এক টা দোকানের সামনে মূল্যে তালিকা টাঙ্গাঁনো থাকলেও বেশির ভাগ দোকানে নেই নিয়ম-নীতির বালাই।
তাছাড়া মূল্যে তালিকার সাথে বিক্রিয় মূল্যের নেই কোন মিল। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চাউল, ডাউল, তৈল, আদা, রশুন, আলু, পেয়াঁজ, ছোলা, বুট, ডাবলি, শুকনো মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম লাগামহীন ভাবে বিক্রি করতে দেখা যায়। যা এ মহামারিতে কর্মহীন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তার পরও বাধ্য হয়ে ক্রয় করতে হচ্ছ এসব পণ্য।
বাজারে আসা পৌর এলাকার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন- উপজেলার অন্য বাজারগুলির চাইতে সিংগাইর বাজারের সব কিছুর দাম বেশি। ফলমূল থেকে শুরু করে যাবতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় ও মসলার দামও। আমাদের বাধ্য হয়েই বেশি দামে ক্রয় করতে হচ্ছে। দিনমজুর মো. বাদশা মিয়া, ওয়াহেদ আলী, আব্দুল আওয়াল, আব্দুর রহিম, আবুল হোসেনসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ক্রেতা সাধারণ বলেন- প্রায় দু’মাস ধরে কাজ করতে পারছি না। সরকার ও এলাকার বিত্তশালিদের সহযোগিতায় কোন রকম দিন পার করছি। বাজারে কিছু মসলা কিনতে এসেছি। মসলার দামও বেশি।
পৌর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. আক্কাছ আলী বলেন- রোজা প্রথম দিকে সবাই একটু কেনাকেটা বেশি করে। তাই মসলার দাম একটু বেশি ছিল। এখন আবার চাহিদা কম তাই কমতে শুরু করেছে। মালামাল মজুদের কথা জিজ্ঞাস করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এবং বলেন-আমরা যে দামে কিনে আনি, অল্প কিছু লাভ করে বিক্রি করি।
মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষনের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন- মসলার দাম বাড়তি আছে। এর মধ্যে সেন্টালি অভিযান শুরু হয়েছে। সিংগাইর বাজার যে কোন সময় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিব।
