সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ছোট বড় প্রায় এক হাজার দু’শত গরুর খামার ও প্রান্তিক কৃষকসহ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫-২০ হাজার গরু ছাগল কোরবানীর জন্য প্রস্তুুত করেছেন। কিন্তু ভাল দাম পাবে কিনা এই শস্কায় রয়েছেন খামারি, প্রান্তিক কৃষক ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
দেশে করোনা ভাইরাসে দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ঘোষিত লকডাউন মানুষের আয়ের পথ বন্ধ থাকায়, কোরবানি আগের তুলনায় এ বছর কম হবে বলে অনেকের ধারনা। তাই ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে খামারিদের চিন্তা তত বাড়ছে।
প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ১ পৌরসভা এলাকায় ২৪৬ টি গ্রামে ৯০ শতাংশ দেশি ষাঁড় গরু ও ১০ শতাংশ শংকর জাতের গরু লালন-পালন করে থাকে। এর মধ্যে এক হাজার দু’শত খামারে প্রায় ১৫ হাজার ষাঁড় গরু, দু-হাজার আটশত ছাগল ভেড়াসহ প্রায় বাড়িতে ১-২ টি গরু ছাগল মোটাতাজা করে থাকে কোরবানির ঈদে বিক্রি করে একটু বাড়তি লাভের আশায়।
তাছাড়া এলাকার খামারি, প্রান্তিক কৃষক, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গরু মোটাতাজা করে থাকেন প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার দিয়ে। যার দরুন এ এলাকার গরু চাহিদা অনেক বেশি বলে জানা যায়।
এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক গ্রামে ছোট বড় গরুর খামার রয়েছে। বাড়তি লাভের আশায় অনেক যত্ন সহকারে গরু ছাগল লালন পালন করছে খামারিরা। কিন্তু খামারিদের চোঁখে মুখে হতাশার ছাপ। এমনকি ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে খামারি, প্রান্তিক কৃষক, মৌসুমী ব্যবসায়ীদের চিন্তার যেন শেষ নেই।
কথা হয় পারসা এগ্রো ফার্মস লি: এর সত্তাধিকারি মো. তফসের আলীর সাথে তিনি জানান, আমার খামারে কোরবানীর জন্য ২২ টি ষাঁড় গরু প্রস্তুত করেছি যার মূল্য এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা করে বিক্রির আশা করছি। এ বছর গরুর খাবারে দাম অনেক বেশি হওয়ায় প্রতি গরুতে খরচ হয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে আবার বিক্রির শস্কায় আছি। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের যে অবস্থা তাতে কোরবানি যদি কমে যায়। তাতে লোকসান গুনতে হবে। তাই অনেক চিন্তায় আছি। তাছাড়া খামার থেকে লোকসান হলে আমাদের আগ্রহ হারিয়ে যাবে।
প্রান্তিক কৃষক পৌর এলাকার কাংশা গ্রামের বাদল হোসেন বলেন- অনেক যত্ন সহকারে ২টি দেশী ষাঁড় গরু লালন পালন করেছি বিক্রি করার জন্য। বাড়ি থেকে বিক্রি করার চিন্তা করছি। কিন্তু কোনো ক্রেতা আসছে না। বিক্রি করতে আধও পারব কি না বুঝতে পারছি না। বাজার যদি ভাল না হয় তাহলে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়ে যাবে।
প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক আহমেদ বলেন- আমরা খামারিদের অনলাইনে গরু বিক্রির পরামর্শ দিয়েছি। তাছাড়া আমাদের অফিসে ২টি ফেসবুক পেজ খুলেছি প্রতিদিন বিভিন্ন খামারের গরু বিজ্ঞাপন আকারে পোষ্ট করছি। এতে ভালো সারা পাচ্ছি। তাছাড়া এ এলাকার গরু প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে। ঈদে বিক্রি করতে না পারলেও পরে বিক্রি করলে কোনো সমস্যা হবে না। এমনকি দামও পাবে ভালো।
