সিংগাইরে নিরাপদ সবজি চাষে ঘুরে দাড়ালেন কৃষক আজিজ

মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস,সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি চাষ করে ঘুরে দাড়ালেন আব্দুল আজিজ। তিনি উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা এলাকার জনাব আলীর ছেলে। আজিজ পরিবারের হাল ধরতে অল্প বয়সেই শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরব পাড়ি জমান। সেখানে র্দীঘ দিন চাকুরি করেন। তেমন সুযোগ সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফেরেন। দেশে এসে অল্পকিছু জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। কিন্তু অজ্ঞতার কারনে তেমন লাভবান হতে পারেনি তিনি। এরই মধ্য ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কৃষি ইউনিটের কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান ও সহ. কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান এর সাথে যোগাযোগ হয়,জানতে পারেন নিরাপদ ফসল উৎপাদন এর বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন, মালচিং পেপার,ফেরোমন ফাঁদ,রঙিন আঠালো ফাঁদ সম্পর্কে।

কৃষি কাজের বিভিন্ন পরামর্শ নেন তিনি। এক পর্যায়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন(পিকেএসএফ) এর সমন্বিত কৃষি ইউনিটের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায়এবংওয়েভ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে ঐ এলাকায় নতুন করে মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি হিসেবে চিচিংগা চাষ শুরু করেন। এতে তিন মাসের মধ্য ভালো ফলন হওয়ায় সবজি চাষে আরোও আগ্রহ বাড়ে তার। পর্যায়ক্রমে তিনি ১৮বিঘা জমি লিজ নিয়ে শসা,ধুন্দল,করলা ও চিচিংগা চাষ শুরু করেন। এ থেকে ১ বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আয় করেন। কৃষক আব্দুল আজিজের চাষাবাদ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অত্র এলাকার অন্যন্য কৃষকেরা মালচিং পেপার ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন শুরু করেছে।
অপরদিকে,উদ্যোক্তা পর্যায় উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকার কৃষক দেওয়ান মো.সায়েম উচ্চ মূল্যের ফল বারি মাল্টা-১ ও গ্রীস্ম কালীন তরমুজ উৎপাদন,বায়রা কাশিম নগরের তপন কুমার সরকার কোকোডাস্ট মিডিয়া ব্যবহার করে মানসম্পন্ন সবজি/ ফলের চারা উৎপাদন ও বিপণন,চর জামালপুর এলাকার মো.সুজন বেপারি ভার্মি কম্পোস্ট(কেঁচো সার) উৎপাদন ও বাজার জাতকরণো লাভের আশায় বুক বাঁধছেন।
সরেজমিনে সফল কৃষক আজিজের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয় তিনি জানান,আমি পরিবারের হাল ধরতে সৌদি আরব যাই। সেখানে র্দীঘদিন থেকেও তেমন সুযোগ সুবিধা করতে পারিনি। পরে দেশে এসে সবজি চাষ শুরু করি। তাতেও তেমন লাভবান হতে পারিনি। এতে হতাশ হয়ে পড়ি। এরই মধ্য সমন্বিত কৃষি ইউনিটের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ হয়। তাদের পরামর্শ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি চাষ শুরু করি। এতে ভালো লাভবান হই। পরবর্তীতে ১৮বিঘা জমি লিজ নিয়ে সবজি উৎপাদন ও বাজারজাত করে ১ বছরে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আয় করেছি। এখন আমি পরিবার নিয়ে অনেক ভালো আছি বলে জানান তিনি।
সমন্বিত কৃষি ইউনিটের কৃষি কর্মকর্তা মো.রাকিবুল হাসান জানান, নিরাপদ ফসল উৎপাদন ও বাজারজাত করনের জন্য সমন্বিত কৃষি ইউনিট(পিকেএসএফ) মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষন ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকি। যাতে উদ্যোক্তারাও সাবলম্বী হতে পারে। অন্যদিকে,ভোক্তাগনের কাছে নিরাপদ সবজি পৌঁছায়। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
উপজেলা কৃষি সম্প্রাসরণ কর্মকর্তা সুরাইয়া নিশাত জানান,সমন্বিত কৃষি ইউনিট(পিকেএসএফ) এর কার্যক্রম সম্পূর্কে আমরা অবগত। এ বছর উপজেলা ১২৫ হেক্টর জমিতে চিচিংগা চাষ হয়েছে। কৃষকরা দামও পাচ্ছে ভালো। তিনি এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, কৃষকদের আমরাও প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *