সার্ভার জটিলতায় আটকা বিদেশগামীদের করোনা টিকা নিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বিদেশগামীদের মধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতগামী প্রবাসীরা করোনা টিকা নিবন্ধনে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। ফাইজারের টিকা দিতেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গত শুক্রবার থেকে চলছে এ নিবন্ধন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি সপ্তাহে এ দুদেশে যেতে অপেক্ষমাণ কর্মীদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে, যা চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। অন্যান্য দেশে গমনইচ্ছুকদের টিকা নিবন্ধন শুরু হবে আগামী সপ্তাহে। তবে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অনেক প্রবাসীকেই।

ঢাকা জেলার জনশক্তি অফিস থেকে বলা হচ্ছে, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার বিদেশগামী কর্মীরা এ নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য তাদের নিবন্ধন করতে ২০৫ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে টিকার জন্য কোনো ধরনের টাকা নেওয়া হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা বিএমইটির সহকারী পরিচালক জান্নাত ফেরদৌস রুপা জানান, শুক্রবার থেকে বিদেশগামী কর্মীদের টিকার জন্য বিএমইটির নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সৌদি আরব ও কুয়েতগামী প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নাম নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে অন্য দেশের কর্মীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব ও কুয়েত সরকার ফাইজারের টিকা নেওয়া প্রবাসীকর্মীদের তাদের দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ওখানে গিয়ে আর প্রাতিষ্ঠানিক হোটেল কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন হবে না। এ কারণে সৌদি আরব ও কুয়েতগামী প্রবাসী কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধন করে ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত তারা সেদেশগুলোতে যেতে পারে।

এদিকে টিকা নিবন্ধনের প্রথম দিনেই সার্ভার জটিলতায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেকে ভোগান্তিতে পড়েন। নিবন্ধন করতে পারেননি বেশিরভাগই। তবে সার্ভার সমস্যার সমাধানে বিএমইটি থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও শনিবারও (০৩ জুলাই) ধীর গতিতে সার্ভার কাজ করে। আশানুরূপ নিবন্ধন করা যায়নি বলে আমাদের সময়কে জানান দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা। আগের চেয়ে অবশ্য কিছুটা উন্নতি হয়েছে দাবি করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল একযোগে কয়েক হাজার নিবন্ধন করানোর। কিন্তু সেভাবে সার্ভার রেসপন্স করছে না। তবে আশা করা যায় শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।’

জানা গেছে, বিদেশগামীদের করোনা টিকা দিতে হলে প্রথমে ‘আমি প্রবাসী’ নামে অ্যাপে নিবন্ধন করতে হয়। কাজটি বিএমইটি করে থাকে। সেখানে রেজিস্ট্রেশন হলেই সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে টিকা দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন হবে। এর পর প্রবাসীরা করোনা টিকা নিতে পারবেন। এমন পদ্ধতিকে অবশ্য বিড়ম্বনাই মনে করছেন প্রবাসীরা। এ বিষয়ে সৌদি আরব প্রবাসী চট্টগ্রামের মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘সুরক্ষা অ্যাপে সবার টিকা নিবন্ধন করা গেলে আমাদের বেলায় কেন সমস্যা হবে? আমাদের পাসপোর্ট নম্বর দিলেই তো নিবন্ধন হয়ে যাওয়ার কথা। তা হলে আর নতুন করে আরেকটি অ্যাপে নিবন্ধন করতে হতো না। এটা আমাদের জন্য ভোগান্তি।’ চট্টগ্রাম বিএমইটি কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে যাওয়া ওমান প্রবাসী রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘আমি প্রবাসী অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ২০০ টাকা বিকাশে দেওয়ার একটা অপশন আছে। সেটার জন্য অ্যাপে ঢুকলে খালি লোডিং দেখায়। শেষ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন হয়নি। উনারা (বিএমইটি) বলেছেন, কাল-পরশু আবার দেখতে, না হলে ৯ তারিখে যেতে।’

বিএমইটির চট্টগ্রামের উপপরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার অবশ্য বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন এটি টিকার রেজিস্ট্রেশন। বিষয়টি আসলে তা নয়। টিকার রেজিস্ট্রেশন হবে মূলত সুরক্ষা অ্যাপে। ভ্যাকসিনের জন্য প্রবাসীদের শনাক্ত করতেই বিএমইটির ডাটাবেজ ব্যবহার করা হবে। এখানে রেজিস্ট্রেশন থাকলেই কেবল সুরক্ষা অ্যাপে প্রবাসী হিসেবে টিকার জন্য নিবন্ধিত হতে পারবেন।’ সার্ভার জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে সার্ভারের সমস্যা সমাধান হবে।’

জানতে চাইলে বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (কর্মসংস্থান) নাফরিজা শ্যামা আমাদের সময়কে বলেন, ‘আগের তুলনায় সার্ভার সক্রিয় হয়েছে। কোথাও তেমন কোনো সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি। প্রথম দিন যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। আশা করা যায় সমস্যার সমাধান হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *