ডেস্ক নিউজ: গোপালগঞ্জে খাল-বিল, বাঁওড়, নদী-নালা ও জলাশয়ে চায়না ম্যাজিক কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে নির্বিচারে ছোট-বড় মাছ শিকার করা হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মৎস্য সম্পদ। ভয়ংকর এ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে স্থানীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই এসব জাল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া গ্রামের ইলিয়াস মৃধা (৬০) বলেন, চায়নার ম্যাজিক জাল এক ধরনের বিশেষ ফাঁদ। এটি প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ফুট লম্বা। ছোট ছোট কক্ষ বিশিষ্ট খোপের মতো। এ জাল খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে জালের দু’মাথা বেঁধে রাখা হয়। ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এ জালে আটকা পড়ে।
তিনি আরও জানান, উপজেলার কাশালিয়া, নিশ্চিন্তপুর, দাড়িয়া, দীঘড়া, গুনহার, শুয়াশুর, মোচনা, সারসাকান্দি, উজানী, মহাটালি, বেদগাম, বামনগাতি, হাজরাগাতি, চান্দাবিলসহ খাল, মুক্ত জলাশয়ে ম্যাজিক জালের ফাঁদ পেতে নির্বিচারে পোনাসহ সব ধরনের মা মাছ শিকার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কুচিয়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজপ্রাণী মারা পড়ছে। এতে ভবিষ্যতে সব মাছ ধ্বংস হয়ে যাবে।
কাশালিয়া গ্রামের সামির মোল্লা বলেন, ম্যাজিক জালে খুব সহজেই প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। বর্ষার শুরু থেকে এই জাল দিয়ে মাছ ধরছি। কারেন্ট জালের চেয়ে ম্যাজিক জালে বেশি মাছ ধরা পড়ে। এতে বেশি আয় হয়। এ কারণে ম্যাজিক জালের প্রতি ঝুঁকছি। প্রতিটি ম্যাজিক জালের দাম চার হাজার থেকে আট হাজার টাকা।
গোপালগঞ্জ মৎস্য ডিপ্লেমা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ নারয়ণ দাস বলেন, এটি দ্রুত বন্ধ না হলে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত দেশি প্রজাতির পুঁটি, ট্যাংরা, কই, শিং, মাগুর, মেনি, বাইম, খলিশা, শৈল, টাকি, আইড়, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ও পোনা বিলুপ্ত হবে। সেই সঙ্গে বিপন্ন হবে কুচিয়া, ব্যাঙ, সাপসহ বিভিন্ন জলজপ্রাণী। পানির জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে সাধারণ মানুষের প্রোটিন সংকট দেখা দেবে। যে কোনো মূল্যে মৎস্য সম্পদ ও জলজপ্রাণী রক্ষায় এ জাল বন্ধে কার্যকারী পদক্ষেপ নিতে হবে।
