ব্যসায়ীদের সেন্ডিকেট বোরো ধানের নায্য মূল্য নিয়েকৃষকেরা হতাশায়

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : শস্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত নওগাঁয় বোরো ধানের নায্য মূল্য নিয়ে ধান-চাল ও চাতাল ব্যবসায়ীদের সেন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ায় কৃষকেরা হতাশাই পড়েছেন। দুদিন আগে যে আধা শুকনো ধান ৯শ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে এই সেন্ডিকেটের ফলে এখন শুকনো ধান ৮শ থেকে ৭শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাকার সফল কৃষক পান্জু সরদার, মাসুদ রানা, রমজান আলী, শহিদুল ইসলাম জানান, দুদিন আগে আধা শুকনো ধান সাড়ে ৯শ ৬০ টাকায় বিক্রি করি। শুকনো ধান ৮শ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে তাও আবার বাঁকিতে। তারা আরো জানান, অনেক প্রান্তিক চাষীরা ৭শ ২০ টাকায়ও ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ তাদের অনেক দেনা পাওনা রয়েছে। তারা এই বাজারের জন্য দায়ী করছেন এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের। এদিকে একটি সুত্র দাবী করে ঈদুল ফিতরকে পূজি করে একটি সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্র সেন্ডিকেট তৈরী করে এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তারা রাস্তায় রাস্তায় ধান কিনে গোদামজাত করছেন। ওইসব সেন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা অনেক সফল চাষীদের নিকট থেকে উচ্চ মূল্যে বাঁকিতেও ধান ক্রয় করছেন। এলাকার সচেতন মহল কৃষকদের ধান নায্য মূল্য পাওয়ার জন্য সেন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সেন্ডিকেট ভাঙ্গার জন্য বাজার মনিটরিং কমির্টি গঠনের জোর দাবী জানান এবং সেই সাথে কৃষকদের পরার্ম দেওয়ারও অনুরোধ জানান। এবার নওগাঁ জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কিছু কিছু জায়গায় দুইদিনের        বর্ষনের  ফলে অনেক চাষী পথে বসিয়েছেন এবং অনেক চাষী    অর্ধেক মজুরী দিয়ে ধান ঘড়ে তুলেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক সামশুল ওয়াদুদ জানান, জেলায় এ বছর ১ লাখ ৮০ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রোপা আমনে ভালো দাম পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত আরও সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *