করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে রাজধানী ছেড়েছেন। এমন অবস্থায় ক্রেতা কম থাকলে রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোতে পণ্যের দাম কমছে না। বাজারগুলোতে কাঁচা পণ্যের শুধু টমেটোই সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, বাজার মনিটরিংয়ে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবু নিত্যপণ্যের দাম কমছে না। উল্টো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে পণ্য। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে শাক-সবজি, মাছ-মাংস, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলের বাজার যেনো সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। পণ্যভেদে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে, বাজার মনিটরিং সন্তোষজনক না দাবি ক্রেতাদের। তাদের মতে, বাজার মনিটরিংয়ে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে, নাহলে পণ্যের দাম কমবে না। এদিকে পাইকারদের দুষছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরায়ও দাম কমে আসবে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর ১নম্বর শাহ আলী বাজার, সরকারি আবাসিক এলাকা বাজার, মিরপুর ৬, ১১, ১০ নম্বর, ইব্রাহিমপুর বৌ বাজার, শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজার, বাসাবো, খিলগাঁও, কমলাপুর, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি বাজার, ফকিরাপুল কাঁচাবাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই দিনের ব্যবধানে রান্নার অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে টমেটোর দাম। বাজার ভেদে দাম কমে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে গত কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বেড়ে এসব বাজারে আকারভেদে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বড় কচু ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, শিমের বিচি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে সবজির দাম বাড়লেও স্বস্তি টমেটোতে। দাম কমে বাজারভেদে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। বাড়তি দাম শাকের বাজারেও। বাজারে প্রতি আটি (মোড়া) কচু শাক ১২ থেকে ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, মূলা ১৫ থেকে ২০ টাকা, পালংশাক ১৫ টাকা থেকে ২০, লাউ ও কুমড়া শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এছাড়া ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি-ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধা কপি (গ্রীণ) ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
করোনা আতঙ্কের মধ্যেই দাম বেড়েছে গরুর মাংসের। প্রতিকেজি ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মহিষ ও খাসির মাংস। মহিষের মাংস ৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, বকরি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও এখন কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা কেজিদরে। লাল ডিম প্রতি ডর্জন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, দেশি মুরগি ১৫০ টাকা, সোনালী ১৪০, হাঁস ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, কোয়েল পাখি প্রতি পিস ১০০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ। এসব বাজারে বর্তমানে প্রতি এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা, ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০, ছোট ইলিশ আকারভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া প্রতিকেজি কাঁচকি ৪০০ টাকা কেজি, মলা ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি (তাজা) ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা, বাগদা ৪৫০ থেকে এক হাজার টাকা, দেশি চিংড়ি ৪০০ থেজে ৫০০ টাকা, রুই (আকার ভেদে) ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙাস ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ বাজার অপরিবর্তিত থাকলে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে (মান ভেদে) ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে, প্রতিকেজি রসুন দেশি (মানভেদে) ৭০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না ১৩০ থেকে ১৫০, তিন কোয়া রসুন ১৮০, আদা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিদরে।
দাম বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের। খোলা সয়াবিন (লাল) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা লিটার, খোলা সাদা সয়াবিন ৯৫ থেকে ৯৬ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত আছে সরিষার তেল। খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা লিটার।
বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে চালের বাজারে। খুচরায় সাত থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। এসব বাজারে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, মিনিকেট পুরান ৬২ টাকা, বাসমতি ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা, কেজিতে আট টাকা বেড়ে প্রতিকেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা, কেজিতে সাত টাকা বেড়ে সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা কেজি, পাইজাম ৪২ টাকা, কেজিতে তিন টাকা বেড়ে প্রতি কেজি পোলাও বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা কেজিদরে।
কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ডালের বাজার। এসব বাজারে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ডাবলি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪৬ টাকা, প্রতিকেজি প্রায় ১৫ এাকা বেড়ে ১২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে দেশি মসুর ডাল।
আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মসলা। এসব বাজারে প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০ থেকে ৫৫০০ টাকা কেজি দরে, জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে ৩৬০০ টাকা কেজিদরে। জায়ফল বর্তমান বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজিদরে।
এদিকে নিত্যপণ্যের দর বৃদ্ধি আর সরকারের বাজার মনিটরিং টিমের বাজার তদারকি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। মাহিমা নামে মিরপুর ১নম্বর বাজারের এক ক্রেতা বলেন, বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে চোখে পড়ছে। সবকিছুর দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে তাহলে কিসের মনিটরিং, প্রশ্ন করেন তিনি। তার মতে, মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে কঠোর থেকে কঠোর হলেই দাম কমবে।
মাহবুব নামে মালিবাগ বাজারের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে বিক্রি নেই তবুও চড়া দাম, এটা কি মানা যায়। বাজারে টমেটো ছাড়া আমাদের সাধ্যের মধ্যে কোনো পণ্য পাচ্ছি না।
ফকিরাপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা শফিকুল বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের দিকে কেনো আঙুল তুলছেন, পাইকার বাজার সামলান, অভিযান করেন, সবকিছুর দাম কমে যাবে। সেখানে দাম বাড়তি থাকায় খুচরায়ও বাড়ছে।
