নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার বনানীতে চীনা নাগরিক গাউজিয়ান হুইকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান জানান, আব্দুর রউফ (২৬) ও এনামুল হক (২৭) নামের ওই দুইজনকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে গ্রেপ্তারদের পরিচয় বা হত্যাকাণ্ডে তাদের ভূমিকা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
গত বুধবার বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর ভবনের পাশ থেকে গাউজিয়ান হুইয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ভবনের পাশের ফাঁকা জায়গায় মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল তার মরদেহ।
৪৭ বছর বয়সী গাউজিয়ান হুই দশ তলা ওই ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদের ধারণা।
গাউজিয়ান হুই মূলত একজন পাথর ব্যবসায়ী। পায়রা বন্দর ও পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে পাথর সরবরাহের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এসব ব্যবসায় কয়েকজন বাংলাদেশি ও চীনা অংশীদার ছিল।
উপ কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান এর আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশি এক ব্যক্তি গাউজিয়ান হুইয়ের প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা মেরে দিয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। আরও অনেকের কাছে মোটা টাকা পাওনা ছিল ওই চীনা নাগরিকের।
“তার সম্পদ, অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে বাংলাদেশি ও চীনের নাগরিকও থাকতে পারে। বাইরের কেউ নন, কাছাকাছি মানুষরাই তাকে হত্যা করে থাকতে পারে,” বলেছিলেন মশিউর।
গাউজিয়ান হুইর লাশ উদ্ধারের পর তার বন্ধু জাঙ শান-হং ১১ ডিসেম্বর রাতে বনানী থানায় গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
ওই সময় গাউজিয়ান হুইর বাড়ি থেকে তার গাড়ি চালকসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলেও তাদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
