ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতা এখন দলিল লেখক

নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময় মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী বাজারে ঘুরে কখনো বা ফুটপাতে বসে গামছা ও মাছ ধরার জালি বিক্রি করতেন জাকির মাদবর (৭০)৷ তার নেই কোনো একাডেমিক সনদ। নিজেকে তারপরেও সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক দাবি করে সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন তিনি।

অন্যকে দিয়ে দলিল লিখিয়ে কামিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। নিজের ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ডে লিখেছেন নামজারি ও জমাভাগ করিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তিনি ভূমি অফিসের কেউ নন।

তার ছেলে মাহমুদুল হাসান সরকারি দলিল লেখক হলেও বাবার অবৈধ আয়কে মেনে নিয়ে নিজেও নেমেছেন অবৈধ আয়ে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মাহমুদুল হাসানকে টংগিবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে থেকে এস আই নুরে আলম মিয়া গ্রেফতার করেন।

জানা গেছে, সোনারং গ্রামের মৃত মকিম পোদ্দারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন পোদ্দার একটি জমি তার ছেলে ইব্রাহীম হোসেন পোদ্দারকে হেবা দলিল করে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন দলিল লেখক মাহমুদুল হাসানের মাধ্যমে।

কিন্তু তারই কিছু দিন পরে একই সম্পত্তি দলিল লেখক মাহমুদুল হাসান ও দেলোয়ার হোসেন পোদ্দার মৃত আসলাম পোদ্দারের স্ত্রী নাসিমা বেগমের কাছে দলিল করে বিক্রয় করেন। নাসিমা বেগম তহসিল অফিসে নামজারি করতে গিয়ে জানতে পারেন যে, ওই সম্পত্তি দেলোয়ার হোসেন পোদ্দার আগেই তার ছেলে ইব্রাহীম পোদ্দারকে দলিল লেখক মাহমুদুল হাসানকে দিয়ে হেবা দলিল করে দিয়েছেন।

পরে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। এসময় বেরিয়ে আসে মাহমুদুল হাসান ও তার বাবা জাকির মাদবরের অনিয়ম আর দুর্নীতির চিত্র।

স্থানীয়রা জানান, জাকির মাদবর আগে টংগিবাড়ী বাজারে ফুটপাতে বসে গামছা, মাছ ধরার জালি ও পুরোনো কাপড় বিক্রি করতো। এরপর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেনের সহকারী হিসেবে কাজ করেন জাকির মাদবর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি না পেরোলেও ছেলের নামের পাশে নিজের নাম লাগিয়েছেন লাইসেন্সপ্রাপ্ত লেখক হিসেবে।

দলিল লেখক কিনা জানতে চাইলে জাকির মাদবর বলেন, ‘আমি দলিল লেখক না। লেখকদের সহকারী হিসাবে কাজ করি। এভাবেই আমার নাম লেখা হয়েছে সাইনবোর্ডে। তাছাড়া আমি পড়ালেখাও তেমন জানি না’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *