প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ,প্রেমিকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক কলেজছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে নির্যাতনের শিকার ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় এ মামলা করেন। দুপুরে ওই কলেজছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলায় কলেজছাত্রীর প্রেমিক উপজেলার বাকাল গ্রামের নয়ন মন্ডল ও একই গ্রামের ইমু মিয়া, সুজন, সুমন মিয়াসহ পাঁচ যুবককে আসামি করা হয়েছে। নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অন্য চার যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।নির্যাতনের শিকার ওই কলেজছাত্রীর বাড়ি একই উপজেলার জোবারপাড় গ্রামে। সে স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আগৈলঝাড়া সার্কেল) আব্দুর রব মামলার বরাত দিয়ে জানান, প্রায় এক বছর আগে মুঠোফোনে পার্শ্ববর্তী বাকাল গ্রামের নয়ন মন্ডলের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর পরিচয় হয়। কয়েক মাস পর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন নয়ন মন্ডল। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিয়ের কথা বলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে নয়ন মন্ডল কৌশলে ওই কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

সর্বশেষ গত ২৪ অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীর রাতে ওই কলেজছাত্রীকে ফোন করে ডেকে নেন নয়ন। এরপর তাকে জোবারপাড় গ্রামের নির্জন একটি মাছের ঘেরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় বাকাল গ্রামের ইমু মিয়া, সুজন, সুমন মিয়াসহ চার যুবক কিছুটা দূরে মাদক সেবন করছিলেন। তারা টের পেয়ে ওই কলেজছাত্রী ও নয়ন মন্ডলকে ধরে বাকাল গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।

এরপর নয়ন মন্ডলকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। অপর একটি কক্ষে নিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা পালিয়ে যান। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি গোপন করেন ওই কলেজছাত্রী। পরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার সকালে ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আসামিদের ধরতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সবাই পালিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের ধরা হবে। পাশাপাশি ওই কলেজছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *