পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় ঐশীর সাজা বাড়ানোর আবেদন খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের বিরুদ্ধে সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ঐশীকে এই মামলায় আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল মঞ্জুর) দেয়া হয়েছে।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে সোমবার (১৫ মার্চ) দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। ঐশীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফয়সল এইচ খান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, তাকে (ঐশী) বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন। আপিলের পর হাইকোর্ট বিভাগ তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ঐশী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল (লিভ টু আপিল) করে। আবার রাষ্ট্রপক্ষ তার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল বিভাগে আরেকটি লিভ টু আপিল করে।

তিনি বলেন, আজ উভয়পক্ষে শুনে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন। আর ঐশীর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন। অর্থাৎ এখন তার যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল থাকবে কি-না সেটির ওপর আপিল শুনানি হবে।

২০১৭ সালের ৫ জুন ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে বিচারিক আদালতের দেয়া সর্বোচ্চ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জরিমানা ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশী রহমান এবং তার দুই বন্ধু মিজানুর রহমান রনি ও আসাদুজ্জামান জনিসহ চারজনকে আসামি করে পৃথক দুটি চার্জশিট দাখিল করেন। অন্য আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামলাটির বিচার সম্পন্ন হয় শিশু আদালতে। সেখানে সুমি খালাস পান।

এ হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর নিহতদের একমাত্র মেয়ে ঐশীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করতে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদের আদালত। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলার অন্য ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে খুনের ঘটনার পর ঐশীদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে দু’বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঐশীর অন্য বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি খালাস পান।

দুটি খুনের জন্য পৃথক দুটি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। দুটি অপরাধের জন্য আলাদা করে ঐশীকে দুবার ফাঁসি ও দুইবারে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ের সাতদিন পর ২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছে। পরে এ মামলায় শুনানির জন্য রায়ের বিরুদ্ধে ঐশী রহমানের করা আপিল গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।

ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও ঐশী আলাদাভাবে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *