নবীজির মহানুভবতা

ইহুদিরা নবীজিকে অনেকভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এমনকি হত্যারও চেষ্টায় লিপ্ত হয়। একবার নবীজির ওপর জাদু করল ইহুদিরা। মদিনায় তাদের মিত্র বনু জুরায়েক গোত্রের লাবিদ ইবনে আসাম নামক এক ইহুদি তার মেয়েদের মাধ্যমে নবীজিকে জাদু করে। প্রথমে সে নবীজির খাদেমের মাধ্যমে নবীজির কয়েকটি চুল ও ব্যবহৃত একটি চিরুনি সংগ্রহ করে। তারপর তার মেয়েদের দিয়ে সেই চুলে ১১টি জাদুর ফুঁক দিয়ে ১১টি গিরা দেয় ও তার মধ্যে ১১টি সুচ ঢুকিয়ে দেয়। অতঃপর চুল ও সুচসহ চিরুনিটি একটি খেজুরের কাঁদির খোলা আবরণীর ভেতর রেখে মদিনার ‘যারওয়ান’ নামজ একটি পরিত্যক্ত ক‚পের তলায় একটি বড় পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, জাদুর প্রভাবে আল্লাহর রাসুল (সা.) মাঝে-মধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়তেন। যে কাজ করেননি, তাও করেছেন বলে অনুভব করতেন। এভাবে প্রায় ছয় মাসের মতো নবীজি জাদুর প্রভাবে কষ্ট করেছেন। তারপর একরাতে স্বপ্নে দুজন ফেরেশতা এসে নিজেদের মধ্যে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে নবীজিকে জাদুর বিষয়ে সব কিছু অবহিত করেন। ফলে পরদিন হজরত আলী, যুবায়ের ও আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) সহ একদল সাহাবি গিয়ে সেই ক‚প সেঁচে পাথরের নীচ থেকে খেজুরের কাঁদির খোসাসহ চিরুনিটি বের করে আনেন। ওই সময় সুরা ফালাক ও নাস নাজিল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি সুরার ১১টি আয়াতের প্রতিটি পাঠ শেষে এক একটি গিরা খুলতে থাকেন। অবশেষে সব গিরা খুলে গেলে তিনি স্বস্তি লাভ করেন। সাহাবিরা ওই ব্যক্তিকে হত্যা করতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করে বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে রোগমুক্ত করেছেন এটাই যথেষ্ট। লোকদের মধ্যে মন্দ ছড়িয়ে পড়ুক, এটা আমি চাই না।’ (বুখারি : ৬৩৯১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *