মো. নাজমুল হোসেন : ঢাকার নবাবগঞ্জে মো.জাকির হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের চর শৈল্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ঐ এলাকার আবুল কালামের বড় ছেলে। নিহতের পিতা জানান,শফিকুল পরিকল্পিত ভাবে আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের পিতা নববাংলাকে আরোও জানান, বুধবার দুপুরে আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে যায় শফিকুল। পরে বিকেলে ঐ ওয়ার্ডের মেম্বার আমাকে জানান, জাকির অসুস্থ অবস্থায় শফিকুলের বাড়িতে পড়ে আছে। আমি গিয়ে জাকিরকে শফিকের ঘরের সামনে পড়ে থাকতে দেখতে পাই৷ তার শরীরে কোনো জামা ছিলো না, বালু মাখানো ছিলো এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে ছিলো। পরে শফিকুলের বোন ঘরের দরজা খুলে জাকিরের শার্ট এবং মোটরসাইকেলের চাবি দেয়। অজ্ঞান অবস্থায় নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তার অবস্থা আশংঙ্কাজনক দেখে মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১লা অক্টোবর) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে জানাযায়, জাকির দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী আনা নেওয়া করতো। কি কারণে তাকে এই ভাবে পরিকল্পিত হত্যা করা হলো সেই প্রশ্ন এখন সবার মনে বিরাজ করছে।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ খেজুরবাগ এলাকার শফিউদ্দিনের ছেলে জাকির, আলমগীরের ছেলে প্রিন্স এবং জুয়েলসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন পরিকল্পিত ভাবে জাকিরকে হত্যা করে।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানায়, শফিকুল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবন করে আসছেন। থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ একাধিক মারামারির মামলা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ গত পরশু এলাকায় আসে শফিকুল। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। পরশু এলাকায় আসার পর বুধবার দুপুরে জাকিরের সাথে এই ঘটনা ঘটে এবং বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যায় সে।
এব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, আমরা প্রথমে খবর পেয়েছি জাকির আত্মহত্যা করেছে, আবার শুনলাম গাড়ি দূর্ঘটনা ঘটেছে। আবার নিহতের পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্যের সাথে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এটা অস্বাভাবিক মৃত্যু, মামলা প্রক্রিয়াধীন।
