মো. নাজমুল হোসেন : বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সারা দেশে ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় প্রকাশ্যে কেউ জয়বাংলা বলতে সাহস পাননি। কিন্তু আজ জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও স্লোগানের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। বুধবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত জয়বাংলা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, ঢাকা-১ আসনের সাংসদ ও জয় বাংলার প্রস্তাবক সালমান এফ রহমান এসব কথা বলেন।

জয় বাংলার প্রস্তাবক সালমান এফ রহমান বলেন ১৯৭১ সালের ৭মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়র্দী উদ্যানে প্রায় ১০ লক্ষ জনতার সামনে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণ শেষে বঙ্গবন্ধুর একক বলা জয় বাংলা স্লোগান মুহুর্তে লাখো কন্ঠে বেজে উঠে যা ধীরে ধীরে কোটি প্রাণে বিজয়ের উদ্ধীপনা সৃষ্টি করে। সুতরাং এক কথায় বলতে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ও জয় বাংলা স্লোগান স্বাধীনতার মূল ভিত্তি।
এমপি বলেন, যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু যখন দেশের দায়িত্ব নেন ঠিক তার কিছুদিন পরই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির সোনালী সূর্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দেশ আবার পিছিয়ে যেতে শুরু করে। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশে আসেন। তিনি আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দলের দায়িত্ব নেন। পাল্টে যেতে থাকে আওয়ামীলীগ।

তিনি আরও বলেন, আজকে এতো উন্নয়ন, এতো বড় অনুষ্ঠান করা কখনোই সম্ভব হতো না যদি দেশ স্বাধীন না হতো। বঙ্গবন্ধুর আমাদের এই স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় বিশ্বে অনেক বড় বড় দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি আমরা মাথা পিছু আয়ে ভারতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালের ১০ মার্চ জাতীয় সংসদে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করার প্রস্তাব রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমান । তারই ধারাবাহিকতায় গত ২মার্চ জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রীসভা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে পপ সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম, নগর বাউল জেমস, গান বাংলা চ্যানেলের কর্ণধার কৌশিক হোসেন তাপস এন্ড ফ্রেন্ডস, চিত্র নায়ক ফেরদৌস, চিত্র নায়িকা পূর্ণিমা, বিদ্যা সিনহা মীমসহ বাংলাদেশি শিল্পীরা মঞ্চ মাতান।
একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অরুন কৃষ্ণ পাল, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ভূইয়া কিসমত, যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান আওলাদ হোসেন, ড. সাফিল উদ্দিন মিয়া, ইঞ্জি. আরিফুর রহমান শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার, দোহার সার্কেল এএসপি আরিফুর ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইফতেকার হোসেন হৃদয়, নবাবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ, দোহারের মো. মোস্তফা কামাল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম মুস্তফা শিমু, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্য ভূইয়া, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
