নবাবগঞ্জে চতুর শাশুড়ির যোগসাজশে সরকারি চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

মো. নাজমুল হোসেন: কল্পনা রানী রায় পরিবার পরিকল্পনার মাঠ পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরির বয়সকাল শেষ হওয়াতে অবসরে যান তিনি। কল্পনা রানী নয়নশ্রী ইউনিয়নের তুইতাল ইউনিটে কাজ করতেন। তবে পরিবার পলিকল্পনার বিষয়ে অভিজ্ঞতা ছাড়াও মিথ্যা তথ্য প্রদানেও রয়েছে বেশ দক্ষতা। শুধু তাই নয় কিভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি চাকরি হাতিয়ে নেওয়া যায় সেদিকেও বেশ পটু তিনি। নববাংলার অনুসন্ধানেও তার প্রমান মিলেছে।

গত ২৬ আগস্ট ২০২১ সালে ঢাকা জেলার আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের শূণ্য পদে ৪ ক্যাটাগরিতে নিয়োগ বিজ্ঞপপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর, চক খানেপুর, খানেপুর ও চরশৈল্যা ইউনিট শূন্য থাকায় এই ইউনিটেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিভিন্ন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রিটেন পরীক্ষা পর্যন্ত ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বি অংশ নেয়। এতে দীপা রানী মন্ডল কৃতকার্য হন। সোনিয়া আক্তার, সামিয়া আক্তার ও আফসানা আক্তার কৃতকার্য হতে পারেননি। শুরু থেকেই দীপা রানীকে নিয়ে অন্য প্রতিযোগিরা বিভিন্ন সময় মৌখিক অভিযোগ দিলেও কোন লাভ হয়নি।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শর্ত অনুযায়ী উল্লেখ আছে যে, পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ সহকারী পদের আবেদন কারীকে অবশ্যই শূন্য পদের বিপরিতে প্রদর্শিত সংশ্লিষ্ট ইউনিট/ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত গ্রাম/পাড়া/মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রাম্যান/পৌর সভার মেয়র/সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক সনদপত্র ও স্থায়ী বাসিন্দা সনদপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় দাখিল করতে হবে। অস্থায়ীভাবে বসবাসকারীগণ এই পদে আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
অপর দিকে গত ৪ ডিসেম্বর ২/খ ইউনিটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে দীপা মন্ডল রোল. ১২০৩৭১৩৮৫ কে উর্ত্তীণ করা হয়। দীপা তার শাশুড়ির যোগসাজসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. পলাশ চৌধুরীর কাছ থেকে চাহিদা কৃত মিথ্যা ও ভুল ঠিকানার সনদ পত্র হাতিয়ে নেন।
ঘটনার সত্যতা জানতে তদন্তে নামে সাপ্তাহিক নববাংলা। সরজমিনে দীপা রানী মন্ডলের শ্বশুর বাড়ি সিংগাইর উপজেলার জামসা এলাকায় গেলে এই প্রতিবেদক দীপা রানীর সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে তার শাশুড়ি কল্পনা রানীকে মুঠোফোনে কল দেন।

এসময় তিনি প্রতিবেদতকে তার বাড়িতে কেনো আসছি বলে জানতে চান? প্রতিবেদক যখন নিয়োগ পত্রে কেনো মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বিষয়টি জানতেল চাইলে মুঠোফোনে কল্পনা রানী প্রতিবেদককে মামলার হুমকি দেন এবং প্রতিবেদক কি করতে পারেন তাও দেখতে চান। শুধু তাই নয়, নিয়োগ পত্রে মিথ্যা তথ্যকে সত্য বানানোর জন্য কল্পনা রানী মন্ডল খানেপুর এলাকায় জমি কেনার জন্য পায়তারা করছেন।
কিন্তু দীপার দেওয়া ঠিকানা মিথ্যা ও ভুঁয়া দাবি করে গত ৬ ডিসেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে জাহাঙ্গীর আলম জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বরাবর আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে নয়নশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পলাশ চৌধুরীকে ওইদিনই উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আমান উল্লাহ প্রত্যয়ন পত্রের সঠিকতা নিরূপন ও প্রকৃত তথ্য প্রদানের চিঠি দেন।
পরে পলাশ চৌধুরী গত ৭ ডিসেম্বর নিজের ভুল স্বীকার করে সনদ গ্রহণকারী চতুরতার সাথে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সনদ গ্রহণ করে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন। জবাবে পলাশ চৌধুরী আরোও বলেন, দীপা মন্ডল নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার, মানিকগঞ্জ পৌরসভার, বনগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা বলে সত্যতা যাচাই করেছেন বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.সবুজ হাওলাদার বলেন, আমরা দীপা রানী মন্ডলের তথ্য যাচাইয়ের একটি চিঠি পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় তাকে এখনো নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্য আমরা তদন্ত টিম গঠন করেছি। খুব শিগগিরি সরজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *