নাজমুল হোসেন: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ছিনতাইকালে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টায় উপজেলার বান্দুরা পৃত্তিতলা এলাকা থেকে জনতার সহায়তায় তাদেরকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মিঠুন নামে এক ছিনতাইকারী ইজিবাইক ও মাছ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুপুরে মাছ ব্যবসায়ী গোসাই মালো ও আহত অটোগাড়ির ড্রাইভার আতাই মাহাকির ( ৪৮) বাবা বাদশা মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
আটকৃতরা হলেন, বরিশাল জেলার টংচর এলাকার মো. করিমের ছেলে ইমন হোসেন ইমু (২৮), বরিশাল জেলার বালিয়াতলী গ্রামের মালেক খন্দকারের ছেলে মো. মোশারফ হোসেন (২৫), ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার মৃত কাশেম দেওয়ানের ছেলে মো. হেলাল (২৮)।
ছিনতাই কারীদের সাথে কথা বললে মো. হেলাল নামে একজন ছিনতাইকারী বলেন, আমাদেরকে ফোন করে ডেকে আনা হয়েছে। তিনি জানান, বান্দুরা এলাকার কালাম নামে এক লোক তাদের ফোন করে এনেছেন। কিন্তু এখন তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। ছিনতাইকারী আরেক সদস্য মোশারফ আগে প্লাষ্টিক দোকানে কাজ করতেন এবং ইমন ঢাকার চকবাজার এলাকায় পলিথিনের দোকানে কাজ করতেন।
অভিযোগে গোসাই মালো বলেন, অটোগাড়ি করে রবিবার ভোর ৪টায় উপজেলার হাগ্রাদী এলাকা থেকে মাছ কিনে নবাবগঞ্জ বাজার দিকে আসার পথে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বান্দুরা পৃত্তিতলা এলাকায় রাস্তায় ৪/৫ জন দুষ্কৃতিকারী আমাদের গাড়ির গতিরোধ করে রামদা রড শাবল দিয়ে আমাকে ও গাড়ির ড্রাইভারকে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় বান্দুরা থেকে আসা আরেকটি অটোগাড়িতেও হামলা চালায় তারা। আমাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালানোর সময় এক অটোগাড়িসহ তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে জনতা। পরে গণপিটুনী দিয়ে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা অপর ছিনতাইকারী মিঠুন ৪ খারী মাছসহ অন্য অটোগাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, স্থানীয় জনতার সহায়তায় আমরা আহত অবস্থায় ৩ ছিনতাইকারী সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হই। আটকৃত তিন ছিনতাইকারীকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনাস্থল থেকে রামদা, রড, শাবল ও অটোগাড়িটি জব্দ করা হয়। এছাড়া তিনি পুলিশকে সহায়তা করায় স্থানীয় জনতাদের ধন্যবাদ জানান।
