কাজী সোহেল: ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী ইউনিয়নের আলালপুর থেকে শিকারীপাড়া বাজার পর্যন্ত পাকা সড়কে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় চরম ভোগান্তির কবলে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রারাসার শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে।
ভোগান্তির কবলে পড়া এরা জানায়, এমনিতে আলালপুর থেকে শিকারীপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়কটিতে গণপরিবহন খুবই কম। তাঁরপর রাস্থায় পানি জমে থাকায় কোন রিকশা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও সিএনজি পাওয়া যায় না। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। বিশেষ করে এই সড়কের দাউদপুর, হাগ্রাদী ও গরিবপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
শিকারীপাড়া ইউনিয়নের হাগ্রাদী গ্রামের গৃহবধু লাবণ্য আক্তার (৩৫) বলেন, আমাদের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা ও খানাখন্দে ভরে আছে। বিভিন্ন স্থানে তৈরী হয়েছে গর্ত। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কারে না হওয়ায় সড়কে পানি জমেছে। জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় কোন নেতারা এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। আমরা শিকারীপাড়াবাসী অনেক কষ্ট করে চলাচল করছি এ সড়ক দিয়ে। শিকারীপাড়ার ব্যবসায়ী সজল বর্মন বলেন, গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টিতে সড়কটি বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়ক দিয়ে শিকারীপাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, ভূমি অফিস, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাংক বীমা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে বিভিন্ন স্থানে পনি জমে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ি চালকরাও যাত্রী নিয়ে বিপাকে পড়েন। সড়কে পানি থাকায় ভাঙ্গা স্থানে ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ অনান্য গাড়ি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে যাত্রীদের।
গরিবপুরের ইজিবাইক চালক মো. কামাল বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকলেও দেখার কেউ নেই। ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। দেশে এত জায়গায় উন্নত হয়েছে, অথচ এই কার্পেটিং সড়কটি স্থায়ীভাবে এখনো সংস্কার করা হলো না। বারুয়াখালী, শিকারীপাড়াসহ নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের দাবী, বিগতদিনে কে কী করেছে সেটা দেখবো না, বর্তমান সরকার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি’র) কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের দাবি এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক। যাতে আমরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারি।
এবিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নবাবগঞ্জ উপজেলা (এলজিইডি’র) প্রকৌশলী জুলফিকার হক চৌধুরী বলেন, দ্রুত সড়কটি মেরামত করা হবে।
