মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :– উত্তরবঙ্গের মৎস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁর ঐতিহ্যবাহি আত্রাই উপজেলা । আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় শুঁটকি তৈরিতে এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। আহসানগঞ্জ স্টেশন এলাকা জুড়ে এখন শুধু শুঁটকি তৈরির ধুম পড়েছে।এবছরের বন্যায় উপজেলার নদী, বিভিন্ন পুকুর, জলাশয়, খাল-বিল পানিতে ডুবে যাওয়ায় মাছের বিচরণ হয়েছে অনেক বেশি। তাই জলাশয়গুলোতে ধরা পড়ছে দেশিয় প্রজাতির অনেক রকমারী মাছ। আর এ মাছগুলো প্রতিদিন সেই কাক ডাকা ভোর থেকে বিক্রি হচ্ছে আত্রাইয়ের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহি মাছের আড়ৎ ও বাজারগুলোতে। এসব মাছ কিনে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুঁটকি পল্লীর ব্যবসায়ীরা। গত বছর এলাকায় বন্যা না হওয়ায় দেশিয় প্রজাতির মাছ প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। এ জন্য শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হয়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার তারা কোমর বেঁধে শুঁটকি তৈরিতে ঝুকেঁ পড়েছে। স্থানিয় সুত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নিলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজুপরসহ দেশের প্রায় ১৮/২০ জেলাতে বাজারজাত করা হয় ঐতিহ্যবাহী খ্যাতি সম্পন্ন নওগাঁর আত্রাইয়ের শুঁটকি মাছ। আর এ মাছের শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন উপজেলার প্রায় শতাধিক পরিবার। উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরীতে বিশেষভাবে খ্যাত।
এ গ্রামের শতাধিক শুঁটকি ব্যবসায়ী এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত। শুধু বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে তারা পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ নিশ্চিত করেন। এবারে পরপর দু’বার বন্যার কারণে নদী ও খাল বিলে কাঁচা মাছের আমদানী অনেক বেশি।
অন্যান্যবার বাজারে মাছ কম কিন্তু মূল্য বেশি হওয়ায় শুঁটকির বাজারে ধস নেমে ছিল। ফলে তাদের অনেক লোকসান গুণতে হচ্ছিল। এবারে আর তাদের গুণতে হচ্ছেনা লোকসান। মাছের ব্যাপক আমদানী, মূল্য কম এবং শুঁটকির বাজার মূল্য বেশি থাকায় তাদের চোখে-মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠছে।
উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোল্লা জানান, শুটকি ব্যবসার সাথে আমি দীর্ঘদিন থেকে সম্পৃক্ত। শুঁটকি তৈরিতে অর্থ খরচের সাথে সাথে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় হয়। সর্বপোরি রৌদ্র বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ সবকিছুকে উপেক্ষা করে পরিবার পরিজন নিয়ে এ পেশা চালিয়ে আসছি।
উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী শ্রী. রামপদ শীল বলেন, পুঁটি, খোলসানী, চাঁন্দা, রাইখর, সাটিসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছের শুঁটকি আমরা তৈরি করি। এর মধ্যে বিশেষ করে পুঁটি ও সাটি (টাকি) মাছের শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আমাদেরকে বিভিন্ন সময় সরকারিভাবে শুঁটকি তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী শুঁটতি তৈরি করি বিধায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুঁটকির চাহিদা আছে। এবারে ব্যবসাটা লাভজনক হবে বলে আমরা আশাবাদি বলেও জানিয়েছেন তারা।
