দোহার-নবাবগঞ্জে রেললাইন নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে, নবাবগঞ্জে সালমান এফ রহমান

মো. নাজমুল হোসেন : নির্বাচনের আগে ও পরে যা কথা দিয়েছি তা বাস্তবায়তন করতে আমি আমার যথা সাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের সাথে সাথে ঢাকার সাথে দোহার-নবাবগঞ্জে রেল লাইন সংযোগ করতে ইতি মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি যা আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আর বেগবান করবে। গতকাল শনিবার (১৫ ফেব্রারুয়ারি) ঢাকার নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমান এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আমাকে দোহার-নবাবগঞ্জ তথা ঢাকা-১ আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে বলেন আমি তখন ভেবেছিলাম আমাকে তো দোহারবাসী চিনেন কিন্তু নবাবগঞ্জে আমি কি ভাবে পরিচিত হবো। তাই সর্বপ্রথম আমি ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলীর সাথে কথা বলি। তিনি আমাকে সে দিন বলেছিলেন আপনি দোহার দেখেন নবাবগঞ্জের দায়িত্ব আমার। নূর আলী তার কথা রেখেছেন। তাই আমি সেদিন থেকে এই দুই উপজেলার যত উন্নয়ন করতে ইচ্ছা করছি বা যাচ্ছি সবার আগে আমি নূর আলীর সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিই।

সালমান এফ রহমান বলেন, আমার মনে হয় এই দুই উপজেলার মধ্যে এতো পুরোনো ক্লাব নেই বললেই চলে। আমি এই ক্লাবকে আরও বেগবান করতে যা যা প্রয়োজন নূর আলীকে সাথে নিয়ে করবো ইনশাল্লাহ।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহা. নূর আলী বলেন, চুড়াইন ছিলো আমাদের যুদ্ধের ঘাটি। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে যখন আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই তখন চুড়াইন থেকে আমরা সমস্ত যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে থাকতাম। এই চুড়াইন থেকেই আমরা পুরো দোহার,নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর, কেরীগঞ্জসহ আশে পাশের অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন ছড়িয়ে দিতাম।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমার বয়স যখন ১৪ বছর তখন আমি ক্লাশ নাইনে পড়ি ঠিক তখন আমি পাকিস্তান সরকারের মামলার আসামি হয়েছিলাম। এখানে লাল মিয়া আওয়ামীলীগ ও স্বাধিনতার বিপক্ষে তখন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ঠিক তখন আমি এবং চুড়াইন ক্লাবের আব্দুল গফফুর ক্যারোসিন তেল দিয়ে লাল মিয়ার বাড়ি জ্বালিয়ে দেই। ফলে মিলিটারী আমার বাসায় যায়। আমি তখন বাসায় ছিলাম না। তারা আমার মাকে বলে যায় আজ তোমার ছেলেকে জ্যান্ত কবর দিবো। আমি সেদিন পাবনা ইশ্বরদী পেপার মিলে ১মাস থাকি এর পর বাসায় এসে আবার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ি।

ঐতিহ্যবাহী চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের প্রধান উপদেষ্টা ও আজীবন দাতা সদস্য নূর আলী বলেন, এই ক্লাব আমাদের চুড়াইন ইউনিয়নকে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছ। এই চুড়াইন ক্লাব এবং তারিমাবামা স্কুল থেকে অনেক ভাল মানুষ ও অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তির জন্ম হয়েছে এমনকি বড় বর শিল্পপতিরও জন্ম হয়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে। যারা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরছেন। এসময় তিনি উপস্থিত জনতার দাবি পূরনে আধুনিক হাসপাতাল নির্মানে জন্য ৩০ বিঘা জমি দান করার কথা দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্সেশন কর্মকর্তা (অব.) মাহফুজুর রহমান জলিল।
অত্র ক্লাবের সভাপতি রইছুল আলম মফিলের সভাপতিত্বে এসময় নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাস্কর কান্তি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সহ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোড়ল, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বাদশা, জেলা পরিষদ সদস্য এস.এম সাইফুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা অসিম কুমার, আশিকুজ্জামান হিরন, ইফতেকার আহমেদ হৃদয়সহ ক্লাবের সমস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ উপজেলাকে নগরায়নের ব্যাপারের স্থানীয় ব্যবসীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, বিদুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপু, ঢাকা-২০আসনের সাংসদ বেনজির আহমেদ, ইউনিক গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলী, স্বাস্থ্য সচিব আলী নূর, ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহিন আহমেদ, দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

এসময় অতিথিরা বলেন, সালমান এফ রহমান দোহার নবাবগঞ্জকে মডেল উপজেলা গড়তে যে সকল উদ্যোগ নিয়েছেন সত্যি তা প্রশংসার যোগ্য। আপনার সত্যি ভাগ্যবান তার মত একজন এমপি পেয়েছেন। অনেক এমপি রয়েছেন যারা দুই বছর চেষ্টা করেও অনেক কাজ করতে পারে না কিন্তু সালমান এফ রহমান তা ছয় মাসে করে দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আ. বাতেন মিয়া, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু, দোহারের আফরোজা আক্তার রিবা, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরজ্জামান তরুন, নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাবির হোসেন পাভেল, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান দেওয়ান আওলাদ হোসেন, ইয়াসমিন আক্তার, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, দোহারের আলী আহসান খোকন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *