স্টাফ রিপোর্টার: দোহারে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়েছে। দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: রকিব হাসানের সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষকেরা বাগানের মালীর ন্যায়, আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ফুল বাগান, আর এই বাগানের পরিচর্যার দায়িত্ব শিক্ষকদের। সম্প্রতি যেসকল ঘটনা ঘটছে তার বিরুদ্ধে আপনারা সজাগ হয়েছেন এই জন্য সকল শিক্ষককে ধন্যবাদ। তবে শিক্ষকদের মধ্যে প্রকৃত দোষীদের বিচার আমরা সবাই চাই, কিন্তু কোনো নিরপরাধ শিক্ষক যেনো হয়রানির স্বীকার না হয়, সেদিকে প্রশাসন নজর রাখবে। এসময় আসন্ন দূর্গা পূজায় সকল শিক্ষককে সহযোগিতা করার আহবান করেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের দাবী গুলো উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো: রকিব হাসান বলেন, অত্যন্ত শর্ট নোটিশে আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যার পুরো কৃতিত্ব ইউ.এন.ও স্যারের। এসময় তিনি সকল শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে আসার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষকরা বক্তব্য দেন এবং নিজেদের বিভিন্ন দাবী তুলে ধরেন।
পালামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রাথমিক শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে আমরা কিছুই পাইনি, প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য মানুষ গড়তে পারিনি। একজন শিক্ষকের থেকে একজন ড্রাইভারের বেতন বেশি। তিনি অচীরেই জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করার দাবী তুলেন।
কলেজ শাখার পক্ষে পদ্মা সরকারি কলেজের প্রভাষক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা নিজেরা রাজনীতির চর্চা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করবো না। পারস্পারিক দ্বন্দ্ব থাকলে নিজেরা মিটিয়ে নিবো, কোন শিক্ষার্থীর কাছে দাবী পেশ করবো না। শিক্ষার্থীরা কেনো আমাদের অসম্মান করবে? দোহারে শিক্ষকের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আচরণিক মানন্নোয়নের জন্য সরকারি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের দাবী তুলে ধরেন আলমগীর হোসেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে জয়পাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের অসম্মানের জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। লেজুর বৃত্তির দায় শিক্ষক এড়াতে পারে না। একজন সহকর্মী আরেকজনকে রাজনৈতিক কারণে দেখতে পারছে না, একজন আরেকজনের শত্রু হয়ে গেছি। অনেক স্থানে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছে। ১ম যিনি হয়েছেন তাকে নিয়োগ না দিয়ে কেনো ১০ম স্থান প্রাপ্তকে নেয়া হয়েছে? এগুলো বন্ধ করতে হবে। তিনি দাবী পেশ করে বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হোক, কিসের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়েছে তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করে আগে শিক্ষকের বেতন ভাতা দিতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ অজয় কুমার রায়। সভা শেষে একটি সংক্ষিপ্ত র্যালীর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
