দুটি পাই ছোট, হাতের উপর ভর করেই চলতে হয় দোহারের সুতারপাড়ার প্রতিবন্ধী কাঞ্চন বেগমকে। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক মত হাটতে পারিনা। দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, ওদের নিয়ে কষ্টে চলতে হচ্ছে। টাকার অভাবে দুই তিন বছর ধরে কম্বল কিনতে পারি না। একটা পুরান কাথা গায়ে দিয়ে শীতে কষ্ট করি। আজ সালমা আপা আমাকে একটা কম্বল দিয়েছে। এটা দিয়ে রাতে আরামে ঘুমাতে পারব। আজ আমি খুব খুশি। যে আমাদের কম্বল দিল আল্লাহ যেন তাকে অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখেন।’ কম্বল পেয়ে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া এলাকার শারিরীকি প্রতিবন্ধী কাঞ্চন বেগম। নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার সুতারপাড়া হলের বাজারে কম্বল নিতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী দোহারের পৌরসভা, সুতারপাড়া, নারিশা ও মুকসুদপুর ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
কাঞ্চন বেগমের মত কম্বল নিতে এসেছিলেন প্রতিবন্ধী ফজলুর রহমান (৮০)। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধী বলে কেউ আমাদের কথা ভাবে না। শুধু সালমা ম্যাডামই প্রতিবছর একটা করে কম্বল দেয়। এ শীতে এটা পেয়ে অনেক উপকার হল আমার।
কম্বল নিতে আসা দিনমজুর আক্কাস হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতির এ বাজারে কম্বল কেনা অসম্ভব। একটা সাধারণ কম্বল কিনতে ৩/৪শ টাকা প্রয়োজন। সারাদিন খেটে কামাই করি ৫শ টাকা। প্রতিবছরই সালমা ম্যাডাম কম্বল দেয়৷ এবারও আশায় ছিলাম, আজ পেলাম। সব বড়লোকেরা যদি ম্যাডামের মত আমাদের পাশে দাড়াতেন।
কথা হয় হামিদ ভূইয়ার (৯৭) সাথে তিনিও প্রতিবন্ধী। তিনি বলেন, এই দুঃসময়ে ম্যাডাম সালমা ইসলাম আমাদের কথা মনে রেখেছেন এজন্য মনপ্রাণ থেকে দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।
উল্লেখ্য, এ বছর ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ২২ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৩০ হাজার শীতার্ত পরিবারের মাঝে নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপহার স্বরূপ কম্বল বিতরণ করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।
