দোহারে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে প্রবাসি শামিম আ গু নে দ#গ্ধ, হাসপাতালে মৃ ত্যু : থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঢাকার দোহার উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান শামিম বেপারী নামের এক প্রবাসী। ঘটনার চার দিন পর বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
স্বজনরা জানান, গত রোববার রাতে দোহারের নারিশা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন শামিম বেপারী। শামিম বেপারী উপজেলার নারিশা খালপাড় এলাকার ইয়ানুছ বেপারীর ছেলে।
জানা যায়, পাঁচ বছর আগে ফারজানা আক্তার নামের তরুণীকে পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন শামিম । বিয়ের পর বিভিন্ন সময় তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। প্রথমে মেয়ের পরিবার এই বিয়ে মেনে না নিলেও পরবর্তীতে মেনে নেন। পরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শামিমকে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুই লাখ টাকা দেন। গত দুই মাস আগে ফারজানা তাঁকে তালাকের নোটিশ দেন।
শাম গত ৫ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব থেকে নিজ বাড়িতেই আসে। তিনি শ্বশুরবাড়িতে না গিয়ে শ্বশুর  ইসমাইল কাড়ালকে ফেনো জানান আমি দেশে আসছি। শামিম শ্বশুর  বাড়িতে আসতে চাইলে নিষেধ করেন তার শ্বশুর ইসমাইল কাড়াল।
এবিষয় শামিমের স্ত্রী ফারজানা আক্তার জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শামিম আমাদের বাড়িতে আসেন, তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখান। পরে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে আমার ডান হাত কেটে যায়। পরে ডাক-চিৎকারে আমার বাবা ঘর থেকে বাহিরে আসেন। আমার বাবা শামিমকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। এসময় শামিম জানান তার শরিরে পেট্রোল ঢেলে এসেছেন। আমি ফারজানাকে না পেলে নিজেকে শেষ করে দিব। এসময় তার হাতে থাকা গ্যাস লাইট দিয়ে নিজের শরিরে আগুন ধরিয়ে দেন।
শামিমের শ্বশুর  ইসমাইল কাড়াল জানান, শামিম নিজের শরীরে আগুন দিলে আমি তাকে বাচানোর চেষ্টা করি,এতে আমি নিজেই আগুনে দগ্ধ হই, এতে আমার হাত পা ও মুখমন্ডল ঝলসে যায়। পরে আমার ছেলের বউ শামিমের শরিরে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সূর্যবান বেগম জানান, নিহত শামিমের শ্বশুর  ইসমাইল কাড়াল আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক কেরানীর সহকারী ছিলেন। টিসিবির কার্ডে ভুল থাকায় আমি রাত সাড়ে ৭ টার দিকে তাদের বাসায় গিয়ে এ ব্যাপারে কথা বলি, হঠাৎ বাহির থেকে ফারজানার চিৎকারে ঘর থেকে বের হই, এ সময় শামিমের শরিরে ডিজেলের গন্ধ পাই, আমাদের কোনো কিছুর বুজে উঠার আগেই তার হাতে থাকা গ্যাস লাইট দিয়ে নিজের শরিরে আগুন ধরিয়ে দেন।
পরে আহত অবস্থায় শামিমের শ্বশুর বাড়ির লোকজনসহ স্থানীয়দের সহায়তায় দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শামিম মারা যান।


নিহত শামিমের খালা রহিমা বেগম জানান, মৃত্যুর আগে শামিম আমাকে জানান আমার শরীরে আমি নিজেই পেট্রোল ঢেলেছি, আগুন কে দিয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না।
নিহত শামিমের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে শামিম একটি ভিডিও বার্তায় তাঁর মৃত্যুর কারণ জানিয়ে গেছে। ভিডিওসহ মুঠোফোনটি দোহার থানা-পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান শামিম মুলত তার স্ত্রীকে ইমোশনাল ভয় দেখানোর জন্য নিজের শরিরে পেট্রোল ঢেলে এসেছেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, আমার ভাইকে মাসুদ রানা পান্নু ও আমার ভাইয়ের স্ত্রী ফারজানাসহ তার পরিবার ডেকে নিয়ে মারধর করে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে এবং আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।
এবিষয়ে মাসুদ রানা পান্নু জানান, আমাকে নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমি এই ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানি না এবং ঘটনার দিন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। কোনো একটি মহল আমাকে ফাসানোর চেষ্টা করছে। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হোক।
নিহত শামিমের মা জানান, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচারের চাই।
এবিষয় দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় শামিমের মা বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি মামলা করেছে, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *