নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহার উপজেলার বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিএনপি’র উপদেষ্টা হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টার হত্যা মামলায় জিহাদ চোকদার(২০) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জিহাদ চোকদার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা এলাকার স্বপন চোকদারের ছেলে। মঙ্গলবার বিকেলে দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানা যায়, গত ২ জুলাই সকাল অনুমান ৬ টার দিকে দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবং বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টারকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে ও ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় নিহত হারুন মাস্টারের ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে দোহার থানায় ৭ জন এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন(মামলা নং-০৪, তারিখ-০৫/০৭/২০২৫ খ্রি., ধারা- ৩০২/৩৪)।
মামলাটি রুজু হওয়ার সাথে সাথেই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্তপূর্বক হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটনের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। ঢাকা জেলা পুশি সুপারের নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জুবাইদুলসহ দোহার থানার একটি চৌকস টিম তদন্তে নামে। উক্ত টিম সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ উপজেলার নতুন বান্দুরা এলাকা হতে হত্যাকান্ডে জড়িত ও তদন্তে প্রাপ্ত আসামি জিহাদ চোকদারকে গ্রেফতার পূর্বক তার হেফাজত হতে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার ও জব্দ করেন। ধৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ কালে সে ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধুত আসামি জিহাদসহ তার সহযোগীরা মিলে তিন মাস আগেও একবার হারুন মাস্টারকে হত্যা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনায় তার মোটরসাইকেল দিয়ে খুনিরা ঘটনাস্থল রেকি করে ও সর্বশেষ এই হত্যাকা- ঘটায়। ধৃত আসামিকে পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মহসিনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয় এবং আসামী মহসিন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। এ ছাড়া অত্র মামলা তদন্ত কালে গত ৬ জুলাই অত্র মামলা এজাহার নামীয় ৬ নং আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হারুন মাস্টার হত্যাকা-ে এখন পর্যন্ত মোট ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারসহ হত্যাকা-ে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এর জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
