নাজনীন শিকদার, , স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ। অভিমান করে স্ত্রী চলে এসেছেন বাবার বাড়ি। তাই বিক্ষুব্ধ জামাই আগুন দিয়েছেন শ্বশুরের বসতঘরে। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়ার নরুল্লাহপুর মেলা সংলগ্ন এলাকায়। এ ঘটনায় বসত ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে নগদ টাকা স্বর্ণসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আলামিন মোল্লা জানান, আমি গরীব মানুষ। ঢাকায় একটি ছোট ব্যবসা করে সংসার চালাই। তাই আমার পরিবারের লোকজন নিয়ে ঢাকায় থাকতে হয়। ফাকা বাড়ি পেয়ে আহাদ আমার ঘরে আগুন দিয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
ভুক্তভোগী আলামিন মোল্লার স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে মানিকগঞ্জের আজিমনগরের হাতিঘাটার বোরহান বেপারীর ছেলে মো. আহাদের সাথে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ে চায়নাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে আহাদ। যার জন্য অনেকদিন ধরে আমার মেয়ে আমাদের বাড়িতে রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আহাদ। তারই জের ধরে আমার বসতঘরে আগুন দেয় সে।
অভিযুক্ত আহাদের স্ত্রী চায়না আক্তার জানান, আমার স্বামী আমাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো। যার জন্য আমি বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেই। ঘটনার দিন আমাদের বাড়ির পাশে এসে হুমকি দিয়ে যায় আমার স্বামী। পরবর্তীতে রাতেই আমাদের বসত ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোর রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি পাশের বাড়ির একটি বসত ঘরে আগুন জ্বলছে। বাড়ির মালিক আলামির মোল্লার পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকায় আমাদের ডাক চিৎকারে এলাকার লোকজন এসে আগুন নিয়েন্ত্রনে আনেন।
এ ব্যাপারে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
