দোহারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহার উপজেলার পশ্চিম সুতারপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সোহরাব (৫৫)  ইমন বেপারী (২২)  মো.মিহাদ বেপারী  (১৮)  বিলকিস (৪০), সুরাইয়া (১১) কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে উপজেলার পশ্চিম সুতারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আট জনের নাম উল্লেখ্য করে ও আরও অজ্ঞত নামা আসামি করে দোহার থানায় অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এতে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। শনিবার সকালে আলামিন গংরা ঘর তোলার জন্য সুতা টানালে অপর পক্ষ বাধা দেয়, এতে শুরু হয় কথা কাটাকাটি, একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহত ইমন জানান, ওই এলাকার প্রভাবশালী মোঃ গিয়াস আমাদের  ৪৩ শতাংশ জমি রয়েছে, আমাদের  জমি জবরদখল করার  পায়তারা করছে, আমাদের জমিতে তারা ঘর উঠানোর জন্য আসলে আমরা বাধা দেই, পরে আমাদের উপরে হামলা চালায় ও ঘরে থেকে টাকা পয়সা অলংকার লুট করে নিয়ে যায়,আমার মা-বাবা ভাই ও মারধর করে জখম করে।

এ ব্যাপারে সোহরাবের বোন রোকেয়া বেগম বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার চাচাত ভাইয়ের ছেলে আলামিন, বাবু, গিয়াস, আলাউদ্দিন, নাঈম, নাজিম, গিয়াসের স্ত্রী মাকসু, আলাউদ্দিনের স্ত্রী রাহিমা, নাসিরের স্ত্রী নাসিমা গংদের সাথে বিরোধ ছিলো। সকালে আমাদের যায়গায় আলামিন গংরা ভবন তৈরি করার জন্য সুতা টানায়। এসময় আমার বড় ভাই সোহরাব বাধা দিয়ে বলে তোমরা যায়গা মেপে নাও। আমাদের যায়গায় কেনো ঘর তুলছো। পরে আমার ভাইয়ের সাথে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলামিন গংরা আমার ভাই সোহরাব, ভাতিজা মিহাদ, ইমন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী বিলকিস, ও ভাতিজি সুরাইয়াকে দেশীয় অস্ত্র চাপাতি, বাশের লাঠি, রড দিয়ে মারধর ও শ্লীলতাহানি কওে এবং ঘরে থাকা ৮০ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ৫ জনকে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, ৫ জনের অবস্থাই আশঙ্কা জনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। এতে আমার ভাই সোহরাব ও ভাতিজা মিহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এব্যাপারে দোহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নুরুন্নবী ইসলাম বলেন, ঘটনার পর দুই পক্ষ আমাদের জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সোহরাবদের পক্ষে তার বোন রোকেয়া বেগম থানায় এসে এজাহার লিখিয়েছেন। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *