নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনের নির্বাচনে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ছিটকে গিয়ে চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো চার প্রার্থীরা হলেন-জাতীয় পার্টির মোঃ নাসির উদ্দিন মোল্লা, মোট ভোট পেয়েছেন ১৯৮৫ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নুরুল ইসলাম হাত পাখা প্রতিক পেয়েছেন ৬৫৩৮ ভোট। লেবার পার্টিও মোহাম্মদ আলী আনারস প্রতিক পেয়েছেন ২৬৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিমা হুদা হরিণ প্রতিক পেয়েছেন ৪৮২৪ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের নির্ধারিত ১২ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ আসনে উল্লেখিত চার প্রার্থী এক থেকে ছয় হাজারের মধ্যে ভোট পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ পেয়েছেন মাত্র কয়েকশ ভোট। যা মোট প্রদত্ত ভোটের তুলনায় খুবই কম। ফলে তাঁদের জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।
নির্বাচনের শুরু থেকেই এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর দাড়িপাল্লা প্রতিকের ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল স্পষ্ট করে দেয় ভোটারদের বড় অংশ এ দুটি প্রধান প্রার্থীর দিকেই ঝুঁকেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এ আসনে ধানের শীষের প্রতীকের খন্দকার আবু আশফাক ১ লাখ ৭২ হাজার ৪০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়ি পাল্লার প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯শত ৯ ভোট। এ হিসেবে ১৮৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আবু আশফাক ৬৩ হাজার ৪ শত ৯৩ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৪ টি। দুই উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৭ জন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট ৮ হাজার ৫ শত ১৮ জন। বৈধ ভোট প্রাপ্তির হার ছিল ৫৬%।
দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন। উল্লেখিত প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি করতে পারেননি। সংগঠনগত দুর্বলতা, সীমিত প্রচারণা এবং কেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয়ের অভাবে বৈধ ভোটের ১২ শতাংশের কম ভোট পেয়েছেন জামানত হারান।
