ঢাকার দোহারে বালু উত্তোলন বন্ধের একদিন পর ফের শুরু!

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঢাকার দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলণ বন্ধের একদিন পর শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে ফের বালু উত্তোলন শুরু করেছে বালুখেকোরা। এতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার লটাখোলা সেতু সংলগ্ন খালের বালু উত্তোলন বন্ধ করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। ধ্বংস করা হয় একাধিক ড্রেজার ও পাইপ। কিন্তু এ ঘটনার ঠিক একদিন পরই শুক্রবার সকাল থেকে মহাসমারোহে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে স্থানটিতে।
সরেজমিন পরিদর্শনে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় সুজন, তোতা মাদবর, ইলিয়াস মোল্লা ও মো. আকতারসহ কয়েকজন ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। শ্রমিকরা জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় সবাইকে ম্যানেজ করেই ফের বালু কাটা শুরু করেছে তারা। সেই বিশেষ ব্যবস্থা কি জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, “আপনারাই বুঝেন, সব বলা যাবে না।”
জানা যায়, প্রতিবছরই উপজেলা প্রশাসন ও থানা থেকে মাত্র ৫শ গজ দূরে চর লটাখোলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর শাখা খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু তুলে বিক্রি করে আসছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। স্থানীয়রা বাঁধা দিলেও বালুখেকোরা তাতে কর্ণপাত করে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছরই এস্থানে বালু কাটা নিয়ে চলে চোর-পুলিশ খেলা। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনে নদী তীরবর্তী বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আবার শুরু করেছে, সেটা আমাদের জানা নেই। এবার বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, দোহারে পদ্মা বাঁধের বৃহৎ প্রকল্প চলছে। যে কারণে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন একেবারে বন্ধ করতে সালমান এফ রহমান এমপির নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করেও বিভিন্ন স্থানে এখনো বালু উত্তোলন চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *