মো. নাজমুল হোসেন : ১৯৭১ সালের ৭মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রায় ১০ লক্ষ জনতার সামনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণটি ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত। বক্তব্য শেষে বঙ্গবন্ধুর বলা জয়বাংলা স্লোগান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমান জাতীয় সংসদে জাতীয় স্লোগান করার প্রস্তাব রাখেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২মার্চ জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রীসভা।

ফলে জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান হওয়ায় আগামী মঙ্গলবার (২২ মার্চ ) ঢাকার দোহার উপজেলায় এবং ২৩ মার্চ বুধবার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জয়বাংলা উৎসবের আয়োজন করা হবে। সেই সাথে প্রস্তাবক হিসেবে দোহার-নবাবগঞ্জের লাখো জনতা সালমান এফ রহমানকে গণসংবর্ধনা দিবেন।
দোহার উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জয়বাংলা উৎসব ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। জয়বাংলা উৎসব ও সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন পরামর্শ ও আলোচনা সভা করছেন। যাতে করে এ বিশাল আয়োজন সফল হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (কনসার্ট) পরিবেশন করবেন বাউল সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম, নগর বাউল জেমস, গানবাংলা চ্যানেলের কর্ণদ্বার কৌশিক হোসেন তাপসসহ আরো অনেকে।
জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করায় দোহার উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলেন, জয়বাংলা আমাদের হৃদয়ের স্লোগান। এই স্লোগান আজ সকলের মুখে মুখে। আমরা আজ অনেক খুশি। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমানকে দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ হতে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
অন্যদিকে ২৩ মার্চ বুধবার নবাবগঞ্জ উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করায় জয় বাংলা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সেই সাথে প্রস্তাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমান এমপিকে গণসংবর্ধানা দিবেন নবাবগঞ্জ বাসী। জয়বাংলা উৎসবকে কেন্দ্র করে থাকবে চোখ ধাধানো আতসবাজি। মঞ্চ মাতাবেন বাউল সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম, নগর বাউল জেমস, গানবাংলা চ্যানেলের কর্ণদ্বার কৌশিক হোসেন তাপসসহ আরো অনেকে।
জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করায় নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ মো. আবু বকর সিদ্দিকী জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার প্রহর ঘুচলো। জয়বাংলা এখন সকলের স্লোগান। জাতীয় সংসদে আমাদের সাংসদ প্রস্তাব রাখায় আজ জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান। কে কত বেশি খুশি হয়েছে জানি না, তবে আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধারা আছি তারা সবচেয়ে বেশি খুশি। কারণ জয়বাংলা বলেই যুদ্ধ শুরু করেছি এবং জয়বাংলা বলেই যুদ্ধ শেষ করেছি।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, জয়বাংলা আমাদের মুক্তির স্লোগান। যে স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশ নামক একটি দেশ পেয়েছি। যুদ্ধ শুরুর আগে এবং পরে এই জয়বাংলা ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার শক্তি। মন্ত্রীপরিষদ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জয়বাংলা জাতিয় স্লোগান ঘোষণা দিয়েছেন। আর এর প্রস্তাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমান। জয়বাংলা জাতীয় স্লোগান হওয়ায়, আমরা জয়বাংলাকে বরণ করে নিতে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, থানা, উপজেলা আওয়ামীলীগ, সহযোগী সংগঠনসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জমকালো আতসবাজিসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হবে।
