নিজস্ব প্রতিবেদক : নীলফামারী জেলায় শীত জেঁকে বসেছে। তীব্র শীতে কমেছে তাপমাত্রাও। শীতের কারণে কষ্ট পাচ্ছে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, সদর, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার ছিন্নমূল মানুষেরা। শীত তাড়াতে আগুন জ্বালিয়ে শরীর তাপিয়ে নিচ্ছেন তারা।
এই অবস্থায় একদিকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শীতার্তরা। অন্যদিকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছে জেলার হাজারো মানুষ। হাসপাতালগুলোতেও বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া ও সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। হঠাৎ শীত জেঁকে বসায় ফুটপাত ও মার্কেটগুলোতে গরম কাপড় কিনছেন শীতার্তরা। এছাড়া চায়ের দোকানগুলোতেও বেড়েছে চা ও সিগারেট বিক্রি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উত্তরী হাওয়ার দাপট শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতার জেরে পারদের পতন ঘটেছে।জেলা আবহাওয়া দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। জেলায় সকাল থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মনিষা বালা রায় বলেন, ঠাণ্ডাত হামার গরিব মাইনষির খুব কষ্ট বাহে। খড় জড়ো করে আগুন পোহানো চলছে। আসলে শীত আমাদের কেবল শীতার্ত করে না, ভাবায়, যখন শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয় তখন তার দংশনের তীব্রতা ঠিকই হাড়ে গিয়ে বাজে। ঠাণ্ডায় প্রাণহানি শীতকালের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। শীত আমাদের কষ্ট দেয়। আবার জোগায় প্রতিকূলতাকে জয় করবার এক ধরনের শক্তি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এসএ হায়াত আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে এ জেলায় বরাদ্দ এসেছে ৩৭ হাজার কম্বল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের মধ্যে এ কম্বলগুলো বিতরণ করা হয়।
