চার বছর প্রেমের পর পালিয়ে বিয়ে করায় যুবকের নামে মামলা! স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার অভিযোগ

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সৌদি আরবে ৪ বছর প্রেমের পর বাংলাদেশে এসে পালিয়ে বিয়ে করায় যুবকের নামে মামলা দিয়ে তার স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুর নতুন বাজার এলাকায় নিজের স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে ঐ যুবকের শ্বশুর সেকান্দার নির্বল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী যুবক সাগর ওরফে আকাশের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ বছর পূর্বে জীবিকার তাগিদে সাগর সৌদি আরবে যায়। সৌদি আবরের দাম্মানে থাকাবস্থায় পরিবার নিয়ে সৌদির দাম্মামে বসবাস করা উত্তর বালাশুর নতুনবাজার এলাকার সেকান্দার নির্বলের বড় মেয়ে সামিয়া(১৯) এর সাথে সাগরের গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে। গত মে মাসে সেকান্দার স্ব-পরিবারে দেশে এসে বড় মেয়ে সামিয়ার অন্য বিয়ে ঠিক করেন। এ সংবাদ সামিয়া তার প্রেমিক সাগরকে জানাইলে গত ৬ আগষ্ট সাগর সৌদি থেকে দেশে আসে এবং ১৮ আগষ্ট সামিয়াকে নিয়ে পালিয়ে কাবিন রেজিষ্ট্রি মুলে বিয়ে করে। পরবর্তীতে সামিয়ার পরিবার সামিয়াকে অপ্রাপ্ত বয়স দেখিয়ে প্রেমিক সাগরের বিরুদ্ধে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ সামিয়াকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। সামিয়া আদালতে গিয়ে জবানবন্দী দেন যে, তাকে তার প্রেমিক অপহর করে নাই সে স্বেচ্ছায় গিয়ে প্রেমিক সাগরকে বিয়ে করে। এখন সামিয়া তার স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়ীতে বসবাস করতে চায়। সামিয়ার জবানবন্দি নেয়ার পর আদালত তাকে সেফ কাস্টরিতে পাঠান। ১৩ দিন সেফ কাস্টরিতে থাকার পর প্রেমিক সাগরকে মেনে নিয়ে তার সাথে ঘর সংসার করাবে বলে সামিয়া আশ্বাস দিয়ে তার বাবা বাড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে সামিয়ার পরিবার সামিয়াকে গাজীপুরের কালিগঞ্জ এলাকার সিয়াম নামে অপর একটি ছেলের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে দেন।

সামিয়ার প্রথম স্বামী সাগর জানান, সৌদি আরব থাকাবস্থায় সামিয়ার সাথে ৪ বছর প্রেম করে বাংলাদেশে এসে সামিয়া আর আমি পালিয়ে বিয়ে করায় সামিয়া বাবা সামিয়া অপ্রাপ্ত বয়স দেখিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। অথচ সামিয়ার পাসপোর্টে বয়স ১৯ বছর। পরবর্তীতে সামিয়া সেফ কাষ্টরিতে থাকার পর আমার স্ত্রীকে মিথ্যা বলে সেফ কাস্টরি থেকে এনে আমাকে তালাক না দিয়ে সিয়াম নামে অপর একটি ছেলের সাথে বিয়ে দেয়। আমি আমার স্ত্রিকে ফেরত চাই।
এব্যাপারে সেকান্দারের স্ত্রী কাছে জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মামলা তদন্তকারী অফিসার শ্রীনগর থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এব্যাপারে সামিয়ার মা বাদী হয়ে সাগরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আইনে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *