ঘরে ঘরে ঈদ উপহার পোঁছে দিচ্ছে সততা ফাউন্ডেশন

 নিজস্ব প্রতিনিধি: “কতো কিছু দিছে,কত মাস পর এতোগুলো বাজার দেখতে পারলাম।” ঐবারের মতো এবারও ঈদে আমার ঘরে সেমাই চিনি রান্না হবে। কথাগুলো কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন নিলম্বরপট্্ির গ্্রামের হোসেন মোল্লার স্ত্রী কাইমন নেছা। যার পরিবারে তিনি সহ সাত মেয়ের সংসার।
এভাবেই নবাবগঞ্জ থানার প্রতিটি গ্রামে  গ্রামে  অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সততা ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের সদস্যরা হাতে হাতে, কাধে কাধে, রিক্সায় করে আবার মোটরসাইকেল যোগেও সততা ফাউন্ডেশনের ঘরে ঘরে ঈদের খুঁশির উপহার পৌঁছে দিচ্ছে সদস্যরা। এবার তিনশত আঁশিটি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লায় ‘থাকবে না হারানোর ভয়, সততাই করবে জয় ’এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সনে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এবার তিনশত আঁশিটি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার দেওয়া হয়। উপহারে চার কেজি চাউল, এক কেজি করে চিনিগুড়া চাঊল, চিনি, মসুরী ডাউল, দুই কেজি করে পেয়াজ ও আলু , দুই প্যাকেট সেমাই, এক প্যাকেট নুডুলস, ৯০০ গ্্রামের বোতলজাত সয়াবিন তৈল দেওয়া হয়।
এই উপহারে প্রবাসীরা, ছাত্র-ছাত্রী, যুবক-যুবতী , সরকারী-বেসরকারী চাকরীজিবীরা সহযোগিতা করেন।
সততা ফাউন্ডেশনের সদস্য আলীনূর ইসলাম মিশু বলেন, দুস্থ গরীবদের পাশে থাকা, অচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বয়ষ্কদের মুখে হাসি ফোটানো, বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরী করে দেওয়া, এতিমদের মুখে হাঁসি ফোটানোর জন্যই এই সততা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
সততা ফাউন্ডেশনের সদস্য সোহেল জানান, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো খাবারের পাশাপাশি বছরে প্রতিটি গ্রাম থেকে কয়েকটি পরিবারকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে দারিদ্্রতা দূর করা।
সুবিধাভোগী পারুল বেগম জানান আমি অসুস্থ। এবার ভাবছি কোন কিছু পাবো না। কিন্তু তারা ঘরে এসে আমাকে ঈদ উপহার দিয়েছে। আমার মতো অনেক পরিবারের মাঝে শিশু থেকে শুরু করে বয়ষ্কদের মাঝে সেমাই চিনি সহ প্রতিটি পরিবারকে ঈদের নতুন জামা দিছিলো তারা।
এলাকাবাসী নাসির হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের সময় ৩০০টি পরিবারকে চিনিগুড়া চাঊল , ভাতের চাউল, মসুর ডাউল, সয়বিন তেল, চিনি সেমাই ও একশত পঞাশ জন পথিকদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছিলেন তারা।
সুবিধাভোগী মাজেদা বেগম জানান, সততা ফাউন্ডেশন থেকে আমাকে কার্ড করে দিয়েছে । আমি নিশ্চিন্তে থাকি । ঈদের খাবার নিয়ে আমাকে ভাবতে হয় না । তারা বলেছে আমি যতদিন বেঁচে আছি এই কার্ড দেখালেই ঈদের উপহার দিবে তারা। দুই বছর ধরে তারা আমাদেরকে ১ কেজি করে গরুর মাংস, পোলাউ চাঊল ও সেমাই বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসতো আমাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *