কেরানীগঞ্জে চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন : গ্রেফতার তিন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি; কেরানীগঞ্জে চালককে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেফতার কৃতরা হচ্ছে মোঃ রাজু আহমেদ ওরফে লাল চান (৩২), মোঃ সজিব মৃধা( ৩৮) ও মোঃ জিহাদ মিয়া (২১)। সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) তারিকুল ইসলাম। ঘটনার বিবরণে জানা যায় গত ১৬ জুন রাত সাড়ে দশটার সময় নিহত তরিকুল ইসলাম পবন (২৭) তার বান্ধবী লামিয়া আক্তার (১৬)কে সাথে নিয়ে একটি মোটরসাইকেল যোগে তার ওপর তিন বন্ধু শাকিব(২৫),মিরাজ (২৬)ও রাকিব(৩৬)দের সাথে মাওয়া ঘাটে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার জুরাইন এলাকা থেকে রওনা দেয়। তারা ঢাকা -মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়ের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় পৌঁছলে বন্ধু রাকিবের মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়।

এতে রাকিব, শাকিব, ও মিরাজ মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল আনার জন্য পেট্রোল পাম্পে চলে যায়। এ সময় নিহত তরিকুল ইসলাম পবন তার বান্ধবী লামিয়া আক্তারকে সাথে নিয়ে ব্রিজের একপাশে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এসময় অতর্কিতভাবে গ্রেফতারকৃত ওই তিন ছিনতাইকারী একটি মোটরসাইকেল যোগে তাদের পাশে চলে আসে এবং বুঝে উঠার আগেই ছিনতাইকারীরা ধারালো ছোঁড়া দিয়ে তরিকুল ইসলাম পবনকে এলোপাথাড়ি ভাবে আঘাত করে তার মোটরসাইকেল ও তার কাছে থাকা টাকা পয়সা মোবাইল, ও বান্ধবী লামিয়া আক্তারের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এ সময় লামিয়া আক্তার চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে ছিনতাইকারীরা তরিকুল ইসলাম পবনের মোটরসাইকেল সহ দ্রুত ঘটনাস্থান থেকে পালিয়ে যায়। থানাপুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তরিকুল ইসলাম পবনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।

পরে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কেরানীগঞ্জ সার্কেল মোঃ জামিলুল হকের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারী রাজু, সজীব ও জিহাদকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকা পয়সা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ঢাকা -মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘবদ্ধ পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা চুনকোটিয়া মাঠের পাশে একটি বেবি স্ট্যান্ডে প্রতিদিন আড্ডা মারে এবং সন্ধ্যার পরে এক্সপ্রেসওয়েতে টার্গেট অনুযায়ী মোটরসাইকেল আরোহীদের ছিনতাইয়ের কবলে ফেলায়। ছিনতাইকারী রাজু আহমেদের বাবার নাম মৃত, রহিম খান, বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর থানার নোয়াদ্দা গ্রামে। সে বর্তমানে চুনকোটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় জৈনক দেলোয়ার মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে।

গ্রেফতারকৃত সজীব মৃধার বাবার নাম মোফাজ্জল মৃধা, বাড়ি মাদারীপুর জেলার শরীয়তপুর থানার হোগলা মাঠ ঢালিকান্দি গ্রামে, সে বর্তমানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের প্রাণগাও বাগবাড়ি এলাকায় জৈনক মাসুম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে এবং গ্রেপ্তারকৃত জিহাদ মিয়ার বাবার নাম মাকসুদ মিয়া, বাড়ি ভোলা জেলার সদর থানার নবীপুর গ্রামে, সে বর্তমানে চুনকোটিয়া জিয়া নগর এলাকায় জৈনক টোকিও মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *