কেরানীগঞ্জ(ঢাকা)প্রতিনিধি. ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা হাফেজ রোড -নামাবাড়ি রাস্তাটি লকডাউনের নামে গত দুইমাস যাবত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে শতশত লোকজনের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। লকডাউন তুলে নিলেও এবং হাট-বাজার,যানবাহন চলাচলসহ সব কিছুই স্বাভাবিক হলেও এ রাস্তাটি এখনো খুলে দেয়া হচ্ছে না। নামাবাড়ির এলাকার ক্ষমতাসীনদলের এক প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে ওই রাস্তাটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে কেউ রাস্তাটি খুলতেও সাহস পাচ্ছে না।
জানা যায় গত মার্চ মাসের শেষের দিকে জিনজিরা পী এম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের পিছনে জিনজিরা হাফেজ রোড-নামাবাড়ি নাদু বেপারীরঘাট রাস্তাটির নামাবাড়ি রিভারভিউ গেটের সামনে বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। রিভারভিউ গেটের পাশেই রয়েছে পিতৃ ছায়া -মাতৃছায়া নামে আটতলা বিশিষ্ট ৫/৬ ভবন। এই ভবনগুলোতে কয়েক শতাধিক লোকের বসবাস। এছাড়া ভবনগুলোর আশেপাশেও রয়েছে শতশত লোকের বসবাস। এসব লোকের চলাচলের একমাত্র প্রধান রাস্তাই হচ্ছে এটি।
এই রাস্তাটি দিয়ে খুব কম সময়ে তারা জিনজিরা বাজার,মডেল থানা,জিনজিরা ২০ শয্যা হাসপাতাল, কয়েকটি ক্লিনিক,বিভিন্ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্থানে ও প্রতিষ্ঠানে যেযাররমতো যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু রাস্তার মুখে বাঁশ ও টিন দিয়ে বন্ধ করে দেয়ায় মানুষ এখান দিয়ে আর চলাচল করতে পারছে না। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র আনানেয়া করতেও অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তাদের।এছাড়া জিনজিরা স্কুল এন্ড কলেজের মসজিদেও মুসল্লীরা নামাজ পড়তেও যেতে পারছে না।এদিকে রাস্তাটি দীর্ঘ দুইমাস বন্ধ থাকলেও নামাবাড়ি এলাকায় এই রাস্তার উপর লোকজন গাদাগাদি করে চলাফেরা করছে।
কোথাও ১০/১২জন একত্রে বসে চুটিয়ে আড্ডা মারছে। চায়ের দোকান, বিভিন্ন হোটেল লোকজন ঠাসাঠাসি করে বসে খাচ্ছে। সামাজিক দুরুত্ব কিছুই মানা হচ্ছে না। অন্যদিকে রাস্তাটি বন্ধ থাকায় জিনজিরা টিনপট্রি মসজিদঘাট, জিনজিরা বটতলা, জিনজিরা ব্যাংকের ঘাট ও জিনজিরা নাদু বেপারীরঘাটে ইতোমধ্যে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তাটি বন্ধ থাকায় সন্ধ্যার পর ওইসব এলাকায় নিরব হয়ে যায়। আইন শৃংখলা বাহিনীও রাস্তা বন্ধ থাকার কারনে ওইসব জায়গায় সময়মত যেতে পারছে না। নাম প্রকাশে একাধিক ব্যক্তিরা জানান,রাস্তাটি দিয়ে রিকশা,ভ্যান,সাইকেল,মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য প্রাইভেটকার চলাচল বন্ধ থাকলে তাদের কোন অসুবিধা নেই। তবে শুধু বন্ধ করা রাস্তাটির একপাশ দিয়ে একটি পকেটগেটেরমতো করে দিলে সহজে তারা যাতায়াত করতে পারবে।
ভুক্তভোগীরা ওই বন্ধ করা রাস্তাটির একপাশে একটি পকেটগেট করে দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
