মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস (মানিকগঞ্জ ) : পত্রিকার হকার মো. শহিদুল্লাহ (৫০) পিতা. মৃত. জোসন আলী উপজেলার ঘোনাপাড়া মহল্লায় ৮নং ওয়ার্ডে সরকার হতে লীজ নেয়া জায়গায় বসবাস করেন। ছেলে মেয়ে নিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার। ২০ বছরের হকার পেশায় দিন কাটছে তার। পত্রিকা বিক্রি করে যে আয় হয় তাতে সংসার চলে ভালই। কিন্তু টাকা জমানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া তিনি ভেবেছেন এভাবেই হয়তো জীবনটা কেটে যাবে। কখনও ভাবেননি সংসারে অভাব আসবে।
কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে আক্রান্ত হলে মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্দ হয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ২৬শে মার্চ দেশের সমস্ত অফিস আদালত ছুটি ঘোষনা করেন সরকার। এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা উপজেলা পর্যায় আসা বন্দ হয়ে গেলে পত্রিকার হকাররা বেকার হয়ে পরে। উর্পাজন ও বন্দ হয়ে যায়। ফলে দিন এনে দিন খাওয়া এ মানুষগুলি হতাশ হয়ে পরেছেন। পরেছেন বিপাকেও। বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী যা ছিল তাও শেষ। আবার সরকার ছুটি বাড়িয়ে ২৫ই এপ্রিল পর্যন্ত করাতে এদের চিন্তার যেন শেষ নেই। চোঁখে মুখে তাদের যেন অভাবের ছাপ। সংসার কিভাবে চালাবে এই চিন্তায়। পৌরসভা ও বিত্তবানরা সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী দিলেও তা যথেষ্ট না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হকার শহিদুল্লাহর বয়স্ক মা, স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার। ১ জনের উর্পাজিত অর্থ দিয়ে কোন রকম দিনাপাত করতে ছিল। কিন্তুু করোনা ভাইরাসের কারনে পত্রিকা আসা বন্দ হয়ে যায়। এ সহজ সরল মানুষটি হয়ে যায় বেকার। লোক লজ্জার বয়ে কারও কাছ হাতও পাত্তে পারছে না। এই পরিচিত মুখটি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরে আর বাড়িতে টুকিটাকি কাজ করে সময় পার করছে। আমাদের দেখে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে মনে হচ্ছে কত কষ্ট যেন মনের ভিতর।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ফজর নামাজ পড়ে গাবতলি থেকে পত্রিকা এনে অফিস শুরতে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পত্রিকা পৌছায়া দিয়েছি। একটু দেরি হলে আমাকে ফোন দিত। আজ সারাবিশ্বে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে আমরা কর্মহীন হয়ে পরেছি। কত মানুষের সাথে পরিচয় ছিল আমার। এই বিপদ মুহূর্তে কেউ একটি ফোনও দিইনি। খোঁজও নেয়নি। নি:শ্বাস ছেড়ে বলেন কে রাখে কার খবর, এই দুনিয়া। একই চিত্র উপজেলার অন্য হকারদেরও।
