নিজস্ব প্রতিবেদক: মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেওতলায় ইছামতি নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দেওতলা নবারুণ সংঘের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
নৌকা বাইচে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান। নৌকা বাইচ উপলক্ষে ইছামতি নদীর দুই পাড়ে শিশু-নারী-পুরুষসহ উপস্থিত ছিল হাজার হাজার মানুষ।
বাইচে নানা রঙ মেখে সঙ সেজে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও নৌকা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দর্শকেরা। দর্শকের টান টান উত্তেজনার মধ্যেই নৌকার বাইচাররা হাঁক দিলেন ‘হেঁইয়োরে হেঁইযো’। আনন্দে মাতল ইছামতি নদীর দুই পাড়ের হাজারো দর্শক।
বাইচে নবাবগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলা থেকে নানান নামের ৮-১০টি ঘাসি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নৌকাবাইচ বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয়।
বাইচে আগত দর্শনার্থীরা ঢোল, তবলা নিয়ে নেচে গেয়ে এক বর্ণিল পরিবেশ সৃষ্টি করে এলাকা জুড়ে। এ ছাড়া দর্শকদের আনন্দ দিতে বিভিন্ন নৌকা বর্ণিল সাঁজে সাজানো হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসেছে গ্রাম্য মেলা।
নৌকা বাইচের সময় মাঝিরা একত্রে জয়ধ্বনি সহকারে নৌকা ছেড়ে দিয়েই একই সঙ্গে গান গাইতে আরম্ভ করে এবং সেই গানের তালে তালে বইঠা টানে।
অন্য সব নৌকাকে পেছনে ফেলে নিজেদের নৌকাকে সবার আগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় চালায় এই সময় দেহ ও মনের উত্তেজনা বশেই গানের মধ্যে ‘হৈ অরে হৈয়া’ এই ধরনের ধ্বনি দেয়। সেই ধ্বনিতে উপস্থিত দর্শকদের উৎফুল্ল বাড়িয়ে দেয়। এর আগে বিকেল ৩টায় এমপি কোমরগঞ্জ এবিএম ফিলিং স্টেশন এর নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন ও পরে নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কে চলাচলের জন্য নবকলি বাস সার্ভিস পরিবহন উদ্বোধন করেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেওতলা নবারুণ সংঘের সভাপতি মো. মাসুদ মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বাইচ শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে প্রথম পুরস্কার মোটরসাইকেল দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিসেবে ফ্রিজসহ আরও সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
