জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারী সদরে ২০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২৪ লাখ টাকার ইন্টারনেট বিল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মন্ডলের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় প্রতি মাসিক এক হাজার টাকা হিসেবে ১২ মাসের বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজার টাকা। ২০৭টি বিদ্যালয়ের হিসাবে এক বছরে মোট বিলের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী বিলের অর্থ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ হওয়ার কথা থাকলেও জুন মাসে সরকারি বরাদ্দ ছাড় হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বরাদ্দের টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাউন্টে আসার পর থেকে তা না ছেড়ে আটকে রাখা হয়েছে। বিলের টাকা পাওয়ার জন্য কয়েকজন প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের কাছে বিদ্যালয় প্রতি এক হাজার টাকা করে দাবি করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এছাড়া শিক্ষা কর্মকর্তার এসব কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানি করা হয় শিক্ষকদের।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, আমরা মে মাসে কাগজপত্র জমা করেছি। মূলত হিসাব হচ্ছে আমরা ভাউচারসহ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরে ইন্টারনেট বিল সরকারিভাবে ছাড়া হবে এবং সেটি আমাদের অ্যাকাউন্টে যাবে। কিন্তু দুই মাস পার হলেও শিক্ষা কর্মকর্তা অফিসের অ্যাকাউন্টে টাকা আটকে রেখেছেন। আমরা শিক্ষকরা নিজের টাকায় পুরো বছরে ইন্টারনেট রিচার্জ করেছি এখন আমাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেক প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিল আটকে রাখা হয়েছে। আমাদের এক বছরের ভাউচারসহ সব কাগজপত্র নিয়ে বিল ছাড়া হয়েছে। তবে সরকারিভাবে বিল ছাড়া হলেও শিক্ষা কর্মকর্তা অ্যাকাউন্টে সব বিল আটকে রেখেছেন। আমরা কোন শিক্ষক এসব প্রতিবাদ করলে হয়রানি করা হবে। এমনকি কোন সাংবাদিককে বক্তব্য বা জানালে সামান্য কারণেই তিনি শোকজ করবেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মন্ডল বলেন, টাকা আমার কাছে রয়েছে এটা সত্যি। সব বিদ্যালয়ে ১২ মাসে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছি, সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলেই সবাইকে নেট বিল দেওয়া হবে।
