মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস (মানিকগঞ্জ) :
সারা পৃথিবীতে যখন মহামারি ভয়ানক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তখন বাংলাদেশেও স্কুল কলেজ, অফিস আদালত, কলকারখানা এবং কিছু গার্মেন্টস ও বন্ধ রয়েছে।
কিন্তুু তার ঠিক বিপরীত চিত্র মেলে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের আত্রাইল নামক স্থানে জে.বি.সি ইটভাটায়। এ জে.বি.সি ইটভাটায় কাজ চলছে পুরোদমে।
জানা যায়, এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক দিয়ে ভাটা পরিচালনা করায় সরকারকে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের জিম্মি করে ভাটা চালাচ্ছে। ভাটার মালিক উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের আত্রাইল গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিন মাদবরের পুত্র মো. জাফর ইকবাল (৩৫)।
এই ইট ভাটায় প্রতিদিন প্রায় ২ শতাধিক দিনমজুর শ্রেণীর শ্রমিক কাজ করে।
উপজেলার জে.বি.সি ইট ভাটার শ্রমিকদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে একদিনের জন্যও বন্ধ করেননি ভাটা। ইটভাটার শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করছে শ্রমিকরা । তারা যেন মহামারি করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে কিছুই জানে না। মুখে মাস্ক ব্যবহারের নেই কোনো বালাই। সরকারে নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে চলছে কাজ। । শ্রমিকদের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পরতে হয়। শ্রমিকদের কাজ শেষে বিকাল বেলা অযথা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। এ জন্য শ্রমিকদের করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া জে.বি.সি ইট ভাটা ছাড়াও আশেপাশের কয়েকটি ভাটার একই চিত্র দেখা যায়।
ইট ভাটার সরদার জাহাংগীর হোসেন নববাংলাকে বলেন, আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস আছে জানি। কি করব ভাটার মালিক আমাদের কাজ করতে বাধ্য করেছে। আমাদের ছেড়ে দেয় না। কাজেই কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নিয়ে বাড়ির পরিবার অনেক চিন্তা করছে কারণ দেশের সবাই যার যার ঘরে আছে। কিন্তু এ সময়ও আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।
ইট ভাটার মালিক মো.জাফর ইকবাল নববাংলা কে বলেন, আমাদের ইটভাটা বন্ধের সরকার কোনো দিক নির্দেশনা দেয়নি ও আমরা কোনো চিঠিপত্র পায়নি বিধায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া মৌসুম শেষ এই মুহূর্তে শ্রমিক ছেড়ে দিলে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, যেখানে ৫জন লোক একত্রিত হতে পারবে না, সেখানে এত লোক একত্রিত হয়ে কাজ করছে। আমি বিষয়টি দেখছি।
