ঢাকার দোহার উপজেলায় আলোচিত জোড়া খুনের মামলার প্রায় ছয় বছর পর পলাতক আসামি রাজন খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বুধবার (১২ আগস্ট) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাজন খান দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের কাজিরচর এলাকার শাহজাহান খানের ছেলে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, দোহার ঘাটা এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ও সোহেল ছিলেন প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
২০২১ সালের ২০ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে চাকরির সন্ধানে মাওয়া যান।
পরে সাইদুলের মা রাজিয়া বেগম ইফতারের সময় ছেলের খোঁজ নিতে তার মোবাইলে ফোন করেন। তখন সাইদুল জানান, তিনি মাওয়ায় আছেন। কাজ বুঝে নিতে রাত হয়ে যাবে, তাই সেদিন আর বাড়ি ফিরবেন না। পরদিন সকালে ফিরবেন বলেও মাকে জানান।
পরদিন সাইদুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানিয়ে রাজিয়া বেগম থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ সেদিন তার মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ২৩ এপ্রিল আবার থানায় গেলে মামলা না নিয়ে জিডি গ্রহণ করা হয়।
এভাবে চার মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলে সাইদুলের কোনো সন্ধান পাননি রাজিয়া বেগম। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও দোহার আমলী আদালতে মামলা করেন।
পরবর্তীতে সিআইডির তদন্তের মাধ্যমে রাজিয়া বেগম জানতে পারেন, তার ছেলে সাইদুল ও তার বন্ধু সোহেল আর জীবিত নেই।
মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সোহাগ ব্যাপারী ও ইয়াছিন মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে বিমানবন্দর থেকে রাজন খান গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে নতুন অগ্রগতি তৈরি হয়েছে।
