নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসকের অবহেলায় মারজানা (০৫) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রায় এক ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখেন শিশুটির পরিবার ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। মারজানা উপজেলার চর লটাখোলা এলাকার মো.ইউনুসের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্র ও বিক্ষুদ্ধরা জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে দিকে প্রচন্ড জ্বর নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারজানাকে ভর্তি করেন তার পরিবার। এসময় ডিউটিরত চিকিৎসক চিকিৎসাপত্র দেয়। সে অনুযায়ী ওষুধ চলতে থাকে। কিছুক্ষন পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক (ডিউটি ডাক্তার) শিউলি আক্তারকে খুজতে থাকেন মারজানার বাবা ইউনুস। অনেক খোজাখুজি করেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায়নি তাকে। এসময় উপায়ন্তর না পেয়ে নার্সকে জানালে দায়িত্বে থাকা একজন নার্স তার মেয়েকে ঘুমের ওষুধ দেয়। এর কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে মারা যায়।
সরকারী রোটা অনুযায়ী ডিউটি ডাক্তার বা চিকিৎসকের দুপুর ২ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থানের কথা। ওই চিকিৎসককে জরুরী বিভাগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে খুজে না পেয়ে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করলেও রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন মারজানার বাবা ইউনুস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে থেকে ডাঃ শিউলি আক্তার দোহার জেনারেল হাসপাতালে অপারেশনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে মৃত মেয়েকে কোলে নিয়ে রাস্তায় নেমে চিৎকার করেন তিনি। খবর পেয়ে চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে চর লটাখোলা এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষ জয়পাড়া থানার মোড় থেকে সরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় আধাঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন দোহার থানা পুলিশ।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মো.জসিম উদ্দিন জানান, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ভূল চিকিৎসার বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখা হবে। চিকিৎসকের অবহেলা ও ভূল চিকিৎসার প্রমাণ পেলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে ডাঃ শিউলি আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
