দোহারে চিকিৎসকদের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সভা

 নিজস্ব প্রতিবেদক:   ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মকর্তাদের সাথে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার সকালে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে এ সভা করা হয়। সভার  সভাপতিত্বে করেন  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা   ডা. মো: জসিম উদ্দিন।

উক্ত সভায় এ বৈষম্য বিরুধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি টিম হাসাপাতালের স্বাস্থ্য সেবা সেবার মান বৃদ্ধিতে করনীয় নিয়ে আলোচনা করেন।বৈষম্য বিরুধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মো:রাসেল আহমেদ প্রথমে ১৯৭১ থেকে ২০২৪ শহীদীদের আত্মার মাগফিরাত, ২০২৪ সালে গণ অভ্যুত্থানের অসুস্থদের সুস্থতা কামনা করে স্বাগত বক্তব্যে এই গণ অভ্যুত্থানে ডাক্তারদের অনস্বীকার্য অবদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন আমরা আপানাদের কে ডাক্তার জাফরুল্লাহ স্যারের মত পেশার পাশাপাশি মানবিক ডাক্তার হতে অনুরোধ করছি আর স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীন ভাবে ডাক্তার,নার্সরা যেন নির্বিগ্নে সেবাদান করতে পারে সেজন্য ডাক্তারদের নিরাপত্তায় শিক্ষার্থীরা পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন,প্রতিনিধি মো:শহিদুল ইসলাম বলেন জরুরী সেবা, এ্যাম্বুলেন্স,টেস্ট,এক্সরে, ইসিজিসহ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন।

বৈষম্য বিরুধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আদনান বলেন, এই স্বাধীনতা আপনাদের রক্ষা করতে হবে,ডাক্তাররা সময়মত দায়িত্ব পালন করলে ৮০% সমস্যা হয়ে যাবে।

মো: আদর ইসলাম আকাশ বলেন, বহিরবিভাগের দালালচক্র মুক্ত হাসপাতাল নিশ্চিতে করতে হবে প্রয়োজনে ছাত্র সমাজ দালালদের রুখে দিবে।

মো:সোহেল বলেন, টেস্টে যেন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা না নেওয়া হয়,মো:বিল্লাল বলেন আপনাদের কে সমস্থ রুগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।এ আর শিপন বলেন প্রত্যেক টেস্টের মূল্য চার্ট আকারে টানিয়ে দিতে হবে এবং জন সমাজ কে সচেতন করতে ছাত্র সমাজ কাজ করে যাবে।
অপর প্রতিনিধি মো: মুসা বলেন,  ডাক্তারদের আন্তরিকতা আমাদের খুবই জরুরী,হাসপাতালের সামর্থ অনুযায়ী সর্ব্বোচ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আরমান সেতু টয়লেট পরিষ্কার পরিছন্নতার কথা তুলে ধরেন।

নূর বলেন রক্তের ক্সস মেচিং সহ নানা অভিযোগ তুলেন,এছাড়া অনেক অভিযোগ আসে ছাত্র প্রতিনিধিদের কাছ থেকে। এসময় ডাক্তার নার্সরা ছাত্রদের দাবীকে সমর্থন করেন।

দোহার  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা   ডা. জসিম উদ্দিন  বৈষম্য বিরুধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিনিধিদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শুনে ও বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন এবং ছাত্রদের সার্বিক সহায়তা কামনা করেন।পরবর্তীতে জন সাধারণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনে ।
(১) মানি রিসিট ছাড়া হাসপাতালে কোনো প্রকার লেনদেন হবে না। (২) সাধারণ ড্রেসিং করাতে কোনো টাকা লাগবে না। (৩) ঢাকা পর্যন্ত সরকারি এম্বুলেন্স ভাড়া ১৮০০ টাকা। (৪) কোনো ডাক্তার অফিস সময়ে অন্য কোনো প্রাইভেট হসপিটালে প্রাক্টিস করতে পারবে না। (৫) কোনো কর্মকর্তা পেশেন্টের সাথে খারাপ আচরণ করতে পারবে না। (৬) একমাসের মধ্যেই এক্সরে মেশিনের ব্যবহার নিশ্চিত করবে। (৭) পেশেন্ট ক্রিটিকাল হলেও অন্তত প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট দিয়ে ঢাকায় পাঠাতে হবে। (৮) বৈকালিক সেবায় টেস্ট সার্ভিস চলবে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। (৯) ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তারা শুধুমাত্র শনি ও মোঙ্গলবারে হসপিটালে আসতে পারবে। (১০) হস্পিটালের আশেপাশে কিংবা অভ্যন্তরে কোনো দালাচক্র ঘুরাঘুরি করতে পারবে না। (১১) ডায়াবেটিস পরীক্ষার চার্জ ৬০ টাকা মাত্র। (১২) রোগী দেখার ব্যাপারে কোনো স্বজনপ্রীতি করা হবে না। (১৩) ডাক্তারের টেবিলে ওষুধ কোম্পানির লগো সম্বলিত কোনো সিল থাকবে ন। (১৪) অভিযোগ বক্স নিশ্চিত করা হবে এবং প্রত্যেক শনিবার ছাত্রপ্রতিনিধিদের কে সাথে নিয়ে অভিযোগ বক্স খোলা হবে এবং সমস্যা নিরুপায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
(১৫) হস্পিটাল থেকে কী কী ঔষধ ও সেবা প্রদান করা হয়, সেগুলোর তালিকা প্রকাশ করে হাসপাতালের দেয়ালে টানিয়ে দেয়া হবে। (১৬) ডাক্তার, নার্স কিংবা হস্পিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে কেউ দুর্ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *